
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে নিজেদের ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষা করার আবেদন করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আইনজীবীর মাধ্যমে করা এ আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল রোববার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। জুলাই অভ্যুত্থানে কারফিউ দিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যায় উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় অভিযোগ গঠন নিয়ে সালমান-আনিসুলের পক্ষে শুনানির দিন ধার্য ছিল গতকাল রোববার। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।
শুনানির সময় নিজের ক্লায়েন্টদের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের কথা উল্লেখ করেন মনসুরুল হক। যদিও ১০ ডিসেম্বর এ আবেদন করেন তিনি। এছাড়া সালমান ও আনিসুলের ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষা করার জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞের সাহায্য চাওয়ার আবেদন করা হয়। কারফিউ দিয়ে গুলি চালানোর পরিকল্পনা নেওয়ার দিন ফোনে তাদের কোনো কথা হয়নি বলে দাবি করেন এই আইনজীবী।
শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাই এমন কোনো কারণে আইনজীবীর সময় বাড়ানো হবে না। যদিও আসামিপক্ষের আবেদনটি নথিভুক্ত রাখার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী কাল মঙ্গলবার নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে, ২২ ডিসেম্বর সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ওই দিন শুনানিতে তাদের ব্যক্তিগত দায় পড়ে শোনান তিনি। একপর্যায়ে দুজনের একটি ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানো হয়। এরপর সুনির্দিষ্ট পাঁচটি অভিযোগ আলাদা আলাদা পড়া হয়। ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে প্রসিকিউশনের শুনানি শেষে অভিযোগ আমলে নেন আদালত।
জানা গেছে, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফোনালাপ করেন আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান। ফোনালাপের একপর্যায়ে কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দিতে হবে বলে জানান তারা। তাদের এ বক্তব্যের পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। সালমান-আনিসুলের এই বক্তব্যটি হত্যাকাণ্ডে উসকানি হিসেবে কাজ করেছে বলে অভিযোগ প্রসিকিউশনের।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। এরপর থেকে হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা কাঁধে নিয়ে কারাগারে রয়েছেন তারা।