
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ইসি আত্মবিশ্বাসী ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গতকাল সোমবার সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন প্রাঙ্গণে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করার জন্য স্থাপিত কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে, এ এম এম নাসিরউদ্দিন আপিল কার্যক্রম পরিচালনা করার অস্থায়ী কেন্দ্রে সবগুলো বুথ সরেজমিনে পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন।
পরিদর্শন শেষে আপিলের জন্য নির্বাচন কমিশনের নেয়া সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘আপনারা দেখতেই পারছেন যে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করছি।’
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কোনো ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকলেও, সময়ের সাথে তা কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আত্নবিশ্বাসী। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় সেটা সম্ভব হবে বলে নির্বাচন কমিশন বিশ্বাস করে।’
গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, ২০২৬ উপলক্ষে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের বরাবর আপিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশনে স্থাপিত নির্দিষ্ট ১০টি বুথে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মেনে প্রার্থী বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ আপিল করতে পারবেন।
এছাড়া, এ সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য জানতে বা আপিল নিয়ে কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে, আগ্রহীদের কেন্দ্রীয় বুথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল করা যাবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনে আমাদের কাজ হবে স্বচ্ছ : নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.) বলেছেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠভাবে সম্পাদনের জন্য এখন থেকেই আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। যে কোনো অবস্থাতেই যেন নির্বাচন বিঘ্নিত না হয়। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সৎভাবে, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা। নির্বাচনে আমাদের কাজ হবে স্বচ্ছ। সবাই আইন অনুযায়ী কাজ করবেন। গতকাল সোমবার সকালে বান্দরবান পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জেলা পুলিশের আয়োজনে বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে সকলকে। কোনো পক্ষ অবলম্বন করবেন না। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে দৃঢ়ভাবে কাজ করা।
তিনি আরও বলেন, মাঝপথে ছোটখাটো যে বিষয়গুলো হয়েছিল সেগুলো আমাদের মনোবলের উপরে প্রভাব ফেলেছিল। আমরা সেই পর্যায়গুলো অতিক্রম করে আমাদের মনোবল আবারও প্রতিস্থাপিত করতে পেরেছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ সরদার, জিনিয়া চাকমা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল আলমসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মনোনয়নপত্র বৈধ-অবৈধ, ২ ক্ষেত্রেই আপিল করা যাবে : নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, যাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বা যাদের অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তাদের—উভয় ক্ষেত্রেই আপিল করার সুযোগ আছে। এই আপিল আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত করা যাবে।
গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রবেশের সময় মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আপিলের বুথ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি সচিব বলেন, এসব আপিলের ওপরে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কমিশনে শুনানি হবে।
ইসি প্রার্থীর হলফনামা যাচাই-বাছাই করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রার্থী যে তথ্য হলফনামায় দিয়েছে, তা বাছাই করা হয়েছে। এখন সেই তথ্যের ওপরে যদি কারো কোনো আপত্তি থাকে তাহলে আপিল করবেন।
ইসিতে অনেক প্রার্থীর অভিযোগ— তারা মারধরের শিকার হয়েছেন ১ শতাংশ ভোটারের সই নিতে গিয়ে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ নিয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘আমার কানে এটা আসেনি। যদি এরকম অসঙ্গতি হয়ে থাকে তাহলে রিটার্নিং অফিসার এটা দেখবেন। বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন মানুষ সংক্ষুব্ধ হতে পারে। সে সংক্ষুব্ধের কারণ উল্লেখ করে আপিল করলে সেটা পর্যালোচনা করা হবে।’
দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। ইসি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে যদি খবর এসে থাকে, তাহলে নিশ্চয় আপিলটা হবে। আমরা ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করি।’