
বঙ্গোপসাগরে মাছ কমেছে। অন্যদিকে বেড়ে গেছে জেলি ফিশ। সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেমের ওপর চালানো এক জরিপ ও গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্লাস্টিক দূষণ সাগরের দুই হাজার মিটার (দুই কিলোমিটার) গভীরে পৌঁছেছে। তবে, নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সংক্রান্ত কমিটি জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে হস্তান্তর করে।
এসময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দেশের স্থলভাগ যতটুকু, তার সমপরিমাণ অঞ্চল জলভাগেও আছে। কিন্তু এই সম্পদগুলো আমরা ঠিক মতো কাজে লাগাতে পারিনি। এমনকি সম্পদের পরিমাণ কী, সম্ভাবনা কেমন তাও জানতে পারিনি। আমাদের এ সম্পদকে ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। সে জন্য পর্যাপ্ত গবেষণা, নীতি সহায়তা প্রয়োজন হবে।’
বৈঠকে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির একটি বহুমুখী হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশেনোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। ভেসেলটি সমুদ্রের গভীরতা, তলদেশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ করবে। জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণা সমন্বয় করতে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এ বিষয়ে যাদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান আছে, তাদের সাথে গবেষণা সমন্বয় করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গবেষণা জাহাজ আর.ভি. ড. ফ্রিৎজফ ন্যানসেন এর মধ্যমে গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ জরিপ চালানো হয়। আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন, যার মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশের।
বৈঠকে অধ্যাপক সায়েদুর রহমান গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রে জেলি ফিশের আধিক্য মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে। এটা ইমব্যালেন্সের লক্ষণ। ওভারফিশিংয়ের কারণে এটি হয়েছে।’
সাগরের দুই হাজার মিটার গভীরতায় প্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গভীর উদ্বেগের, বলেন তিনি। ২০১৮ সালে পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বড় মাছ কমে যাচ্ছে। স্বল্প গভীর সমুদ্রেও আশঙ্কাজনকভাবে মাছ কমছে। এ সময় সোনার ফিশিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, ‘এভাবে টার্গেটেড ফিশিং হলে বঙ্গোপসাগর মাছ শূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোনার ফিশিং নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।’ গবেষণায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশে ডিপ সি ফিশিংয়ের টুনা মাছের আধিক্য এবং সুন্দরবনের নিচে একটি ফিশিং নার্সারি পাওয়া গেছে।