ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

আলীকদমে পেঁপে চাষে বিপ্লব

আলীকদমে পেঁপে চাষে বিপ্লব

বান্দরবানের আলীকদমের মাতামুহুরী নদীর চরে এক সময় বিস্তীর্ণ তামাকের আবাদ ছিল। বর্তমানে পরিবর্তন এসেছে। এখন স্থানীয় কৃষকরা তামাকের বদলে বাদাম, আলু, মরিচসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করেছে। তার মধ্য পেঁপে চাষ করে সাড়া ফেলেছেন দুই উদ্যোক্তা। মাতামুহুরী নদীর চরে জমি বর্গা নিয়ে ১৩ বিঘা জমিতে রেড লেডি ও টপ লেডি জাতের পেঁপে চারা রোপণ করেন। বিস্তীর্ণ পেঁপে বাগানে এক একটি গাছে ফলেছে গড়ে ৭০-৮০টি করে পেঁপে, যার কোনো কোনোটির ওজন হয়েছে দেড় থেকে ২ কেজি পর্যন্ত। কাঁচা পেঁপে রান্নার সবজি ও পাকা অবস্থায় ফল হিসেবে বিক্রি করে দুইভাবে আয় করছেন চাষিরা। এ কারণে আলীকদমে বাড়ছে পেঁপের বাণিজ্যিক চাষ। তামাক চাষে ভালো দাম না পেয়ে অনেকেই ঝুঁকছেন পেঁপে চাষে। রোগবালাই কম, ফলন ভালো ও উৎপাদন খরচের তুলনায় দ্বিগুণ লাভ পাওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষে ক্রমেই আগ্রহী হয়ে উঠছেন প্রান্তিক চাষিরা।?

উদ্যোক্তা সৈয়দ আলম মনু বলছেন, পেঁপে গাছের চারা রোপণের ৩০-৪০ দিনের মধ্যে ফুল ও ফল এবং মোটামুটি ৯০ দিনের পর থেকেই ফল আহরণ করা সম্ভব। প্রতি বিঘায় উৎপাদন হয় ৪০০-৫০০ মণ পর্যন্ত পেঁপে, যা কাঁচা অবস্থায় বিক্রি হয় ৮০০-১০০০ টাকা মণ হিসেবে। রোগবালাই কম হওয়ায় খরচও হয় কম। তা ছাড়া বাজারে বিক্রি করে উৎপাদন খরচের দ্বিগুণ লাভ করা সম্ভব বলে জানান তারা। এ বছর অন্য সবজি চাষ করে সেভাবে লাভের মুখ দেখতে না পেলেও টপ লেডি, রেড লেডিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের পেঁপে চাষ করে এখন ভাগ্যবদলের স্বপ্ন বুনছেন তারা। উদ্যোক্তা পেঁপে চাষি কাইসার উদ্দিন বাপ্পি বলেন, আমরা দুই বন্ধু মিলে ‘কৃষি জমি বর্গ নিয়ে পেঁপে চাষ করি। বর্তমানে আমাদের পেঁপে বাগানে মোট ৫ হাজার ৫০০ চারা গাছ লাগিয়েছি। টপ লেডি ও রেড লেডি এই দুই জাতের পেঁপে চারা লাগিয়েছি। একেকটি পেপের ওজন ১ কেজি থেকে ২ কেজি সাইজের হবে।

এখন পর্যন্ত আমাদের বর্তমানে ১৯ লাখ ব্যায় করা হয়েছে। আমাদের পেঁপে বাগানে সবেমাত্র গাছে ফল আশা শুরু হয়েছে। টপ লেডি জাতের গাছেও পেঁপে এসেছে তবে সেগুলো পাকায় বিক্রি করব। আমরা আশা করছি প্রতি বিঘায় ৫০০ মণ করে পেঁপে পাব। তিনি আরও বলেন, আমাদের পেঁপে বাগানে যে পরিমাণ সারের প্রয়োজন সে পরিমাণে আমরা ডিলার কাছ সার পাচ্ছি না। সারের ডিলাররা বেশি দামে তামাক চাষিদের কাছে সার বিক্রি করেন বলে অভিযোগ করেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কৃষিবিদ কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, এ উপজেলায় অন্য ফসলের পাশাপাশি এ বছর ১৩ হেক্টর জমিতে একাধারে টপ লেডি, রেড লেডিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের পেঁপে আবাদ করা হচ্ছে। পেঁপে চাষিদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব রকম সহযোগিতা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত