ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত দিতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত দিতে হবে

ব্যবসা ও ভ্রমণের উদ্দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গমনকারীদের দিতে হবে জামানত। যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার অপব্যবহার রোধে নতুন এই ব্যবস্থা চালু করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের বি১ ও বি২ ক্যাটাগরিতে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত দিতে হবে। তবে এই অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করবে ভিসা ইস্যুকারী কনস্যুলার কর্মকর্তা। বাংলাদেশের জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

গত বছরের ৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত পররাষ্ট্র দপ্তরের অস্থায়ী চূড়ান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, এ কর্মসূচি এমন দেশগুলোর নাগরিকদের উদ্দেশে করা হবে, যেসব দেশের ভিসাধারীদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার (ওভারস্টে) হার ঐতিহাসিকভাবে বেশি। তবে ভ্রমণকারীরা জামানতের শর্ত মেনে চললে জমা করা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। গত ২০ আগস্ট থেকে এই কার্যক্রমের পাইলটিং শুরু হয়। প্রথমে দুটি দেশ দিয়ে শুরু হলেও গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই তালিকায় আরও ৩৬টি দেশ যুক্ত করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শুধু নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশ এই তালিকায় আছে।

অন্যান্য দেশের মধ্যে আছে- আলজেরিয়া, অঙ্গোলা, আন্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, বটসওয়ানা, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কোট দ’আইভরি, কিউবা, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্যাবন, গাম্বিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, কিরগিজস্তান, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নামিবিয়া, নাইজেরিয়া, সাও টোমে ও প্রিন্সিপে, সেনেগাল, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, টুভালু, উগান্ডা, ভানুয়াতু, ভেনেজুয়েলা, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে। নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকলে সেটি ভিসা ওভারস্টে বলে গণ্য হয়। এটি রোধ করতে নতুন এই ব্যবস্থা চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, এই দেশগুলোর মধ্যে কোনো একটি পাসপোর্টে যদি মার্কিন ভিসা বি১ ও বি ২ প্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকে তাকে অবশ্যমই এই জামানত দিতে হবে। ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় এই অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। আবেদনকারীকে অবশ্যই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ফর্ম ‘আই-৩৫২’ জমা দিতে হবে। আবেদনকারীদের অবশ্যই ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘চধু.মড়া’ এর মাধ্যমে বন্ডের শর্তাবলীর সঙ্গে সম্মত হতে হবে। অনলাইনে শুধু ‘চধু.মড়া’ এর মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়া যাবে।

নিয়ম অনুযায়ী কনস্যুলার অফিসার আবেদনকারীকে নির্দেশ দেওয়ার পরেই আবেদনকারীদের বন্ড পোস্ট করার জন্য ফর্ম ‘আই-৩৫২’ জমা দিতে হবে। আবেদনকারীরা ‘চধু.মড়া’ এর মাধ্যমে অর্থ দিতে একটি সরাসরি লিংক পাবেন। তবে এই জামানত ভিসা ইস্যুর গ্যারান্টি দেয় না। কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া কেউ ফি পরিশোধ করলে ফি ফেরত দেওয়া হবে না।

জামানতের শর্ত হিসেবে, ভিসা বন্ড পোস্ট করা সব ভিসা হোল্ডারদের অবশ্যই তালিকাভুক্ত নির্ধারিত পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং প্রস্থান করতে হবে। তা নাহলে এন্ট্রি বা এক্সিট রিফিউজ হতে পারে। তিনটি পোর্ট অব এন্ট্রি হলা-বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (বিওএস), জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেএফকে), ওয়াশিংটন ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (আইএডি)।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় রেকর্ড করে। যদি ভিসার মেয়াদ থাকাকালীন সময়ের মধ্যে কিংবা মেয়াদের শেষ দিন কেউ প্রস্থান করে তাহলে তার জামানতের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এছাড়া ভিসার মেয়াদের মধ্যে ভ্রমণ না করলে অথবা ভিসা আবেদনের পর প্রত্যাখ্যান করা হলে জামানতের অর্থ ফেরত দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ভিসার মেয়াদের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে অথবা আশ্রয় প্রার্থনা করলে জামানতের শর্ত ভঙ্গ বলে বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত