ঢাকা শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সীমান্তে বিএসএফের পাকা রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

সীমান্তে বিএসএফের পাকা রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খলিশাকোটাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক পাকা রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আপত্তি জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দফায় দফায় পতাকা বৈঠকের পর রাস্তা নির্মাণ স্থগিত রেখেছে বিএসএফ। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার খলিশাকোটাল সীমান্তে এ উত্তেজনা দেখা দেয়। গতকাল শুক্রবার সকালে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী ১৩ জানুয়ারি উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। সে পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণকাজ স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে বিএসএফ। লালমনিরহাট বিজিবি-১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, খলিশাকোটাল সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪-এর ১নং সাব-পিলার থেকে ১১নং সাব-পিলার পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকায় কুর্শাহাট-দিনহাটা যাওয়ার প্রধান সড়ক। সীমান্তঘেঁষা ভারতীয় ওই সড়কটির ১ কিলোমিটার অংশের কোথাও কোথাও সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে ৭০ গজ, কোথাও ৪০-৫০ গজ আবার কোথাও ১০০ থেকে ১২০ গজের মধ্যে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী শূন্য লাইন থেকে উভয় দেশের ১৫০ গজের মধ্যে প্রতিরোধ কিংবা অপ্রতিরোধমূলক কোনও পাকা স্থাপনা নির্মাণের নিয়ম নেই। অতি প্রয়োজনে কোনও অপ্রতিরোধমূলক পাকা স্থাপনা করতে হলেও উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সম্মতির প্রয়োজন। কিন্তু বিএসএফ আইনের তোয়াক্কা না করেই ফুলবাড়ীর খলিশাকোটাল সীমান্তের শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভেতর পাকা সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করে। এতেই বিপত্তি দেখা দেয়।

বিজিবি ও সীমান্তবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে ভারতীয় মেঘ নারায়ণের কুঠি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকায় কুর্শাহাট-দিনহাটা পাকা রাস্তার কাজ শুরু করে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে ফুলবাড়ী বালারহাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা বাধা প্রদান করে। বিজিবি পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায়। কিন্তু বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর বিএসএফ আবারও রাস্তার কাজ শুরু করে। এ ঘটনায় বিজিবি-বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় জনগণ বিজিবির সমর্থনে লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। বিজিবি ও এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে কাজ বন্ধ রেখে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব দেয় বিএসএফ।

সূত্র আরও জানায়, এরপর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৩৪-এর সাব-পিলার ১-এসের পাশে নোম্যান্সল্যান্ডে বিজিবি-বিএসএফ ক্যাম্প কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাস্তা নির্মাণের কাজ সাময়িক বন্ধ রাখে বিএসএফ। এরপর শুক্রবার সকালে একই সীমান্তে ফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী ১৩ জানুয়ারি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। সে সময় পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে উভয় বাহিনী সম্মত হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।

খলিশাকোটাল সীমান্তের বাসিন্দা উমর আলী ও মজিবর রহমানসহ অনেকে জানান, গত তিন চার দিন থেকে বিএসএফ রাতের আঁধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিজিবি সদস্যরা বাধা দিলেও নির্মাণকাজ বন্ধ করেনি তারা। এলাকাবাসী বিজিবিকে সহযোগিতা করে রাস্তার নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে। কয়েক দফা পতাকা বৈঠক হয়েছে। সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখলেও রাতের আঁধারে ফের কাজ করার আশঙ্কা রয়েছে।

লালমনিরহাট বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, ‘খালিশাকোটাল সীমান্তে ভারতের পাকা রাস্তার নির্মাণকাজে বিজিবি আপত্তি জানিয়েছে। রাস্তাটির কিছু অংশ সীমান্তের নির্ধারিত সীমার ভেতর চলে আসছে। এ নিয়ে শুক্রবার কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। আগামী ১৩ জানুয়ারি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সে সময় পর্যন্ত বিএসএফ রাস্তা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বলেন, ‘ওই সীমান্তে কোনও গুলি কিংবা বিস্ফোরণের শব্দ হয়নি। এমন ঘটনা ঘটলে সীমান্তবাসী অবশ্যই জানতো। এ ছাড়াও বিএসএফ এ ধরনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। পটকা কিংবা আতশবাজির শব্দ হলে হতে পারে। সেটা স্বাভাবিক ঘটনা।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত