
নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে এসে গুগলের সঙ্গে বড় ধরনের অংশীদারিত্বে যাচ্ছে অ্যাপল। আগামী প্রজন্মের এআই ফিচার, বিশেষ করে ডিজিটাল সহকারী সিরি চালাতে গুগলের জেমিনি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে প্রযুক্তি জায়ান্টটি। গত সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে অ্যাপল ও গুগল এ তথ্য জানিয়েছে। বহুবছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় অ্যাপলের এআইসংক্রান্ত নতুন উদ্যোগে গুগলের জেমিনি প্রযুক্তি মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সতর্ক মূল্যায়নের’ পর অ্যাপল মনে করেছে তাদের এআই লক্ষ্য পূরণে সবচেয়ে সক্ষম ভিত্তি দিতে পারে গুগলের প্রযুক্তি। এ সিদ্ধান্ত অ্যাপলের জন্য একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এত দিন প্রতিষ্ঠানটি তাদের মূল প্রযুক্তি নিজস্ব ব্যবস্থায় তৈরি করতেই বেশি গুরুত্ব দিত।
বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোন বাজারে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এটি একটি বিরল সহযোগিতা। বিশ্বজুড়ে অ্যাপলের আইওএস ও গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমই বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে। যদিও এর আগেও দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। আইফোনসহ অ্যাপলের ডিভাইসে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে থাকতে গুগল প্রতিবছর অ্যাপলকে বিপুল অর্থ দিয়ে থাকে।
তবে সেই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরেও রয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ মনে করে, এ ধরনের চুক্তি গুগলের সার্চ বাজারে একচেটিয়া অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করছে। যদিও আদালত আপাতত এই চুক্তি বহাল রাখার অনুমতি দিয়েছে। নতুন এই এআই চুক্তি নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। টেসলা ও এক্সের মালিক ইলন মাস্ক একে প্রতিযোগিতাবিরোধী আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, অ্যান্ড্রয়েড ও ক্রোমের মতো প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি এআই ক্ষেত্রেও গুগলের ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল গুগলের পাশাপাশি ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও পারপ্লেক্সিটির সঙ্গেও অংশীদারিত্বের বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত গুগলের জেমিনিকেই বেছে নেয়। চুক্তির আর্থিক শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। তবে এই ঘোষণার পর গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের শেয়ারমূল্য প্রথমবারের মতো ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়।
ওয়েডবুশ সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক ড্যান আইভস বলেন, এটি গুগলের জন্য বড় ধরনের স্বীকৃতি। একই সঙ্গে অ্যাপলের জন্য ২০২৬ ও তার পরবর্তী সময়ের এআই কৌশল ঠিক পথে আনতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সাম্প্রতিক সময়ে এআই খাতে অ্যাপলের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির এআই বিভাগের প্রধান দায়িত্ব ছাড়েন। এর আগে উন্নত সিরি চালুর সময়সূচিও পিছিয়ে দেওয়া হয়। যা এখন চলতি বছরের শেষের দিকে আসবে বলে জানিয়েছে অ্যাপল। তবে অ্যাপল জোর দিয়ে বলেছে, ডিভাইস–পর্যায়ে আইফোন ও আইপ্যাডে তাদের নিজস্ব ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবস্থাই ব্যবহার করা হবে। এতে ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষায় ‘শিল্পখাতের শীর্ষ মানের গোপনীয়তা’ বজায় থাকবে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।