
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে এক যুবককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাব মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানান জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (’গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম।
নিহত নারী আমেনা বেগম (৪৫) ওই এলাকার মুদি দোকানি বাবুল দেওয়ানের স্ত্রী। গণপিটুনিতে নিহত মেহেদী ইসলাম (৩২) একই উপজেলার বিরাব খালপাড় এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে। মেহেদী পেশায় রাজমিস্ত্রি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী ইসলাম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে বাবুল দেওয়ানের বাড়িতে টাইলস স্থাপনের কাজ করেছিলেন মেহেদী। কাজ শেষ হয়ে গেছে ৪ দিন আগে। কিন্তু গতকাল বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি ফাঁকা পেয়ে মেহেদী ভেতরে ঢোকেন বলে অভিযোগ ওঠে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেসময় ঘরে থাকা বাবুলের স্ত্রী আমেনা মোবাইল চুরি করতে দেখে ফেলায় তাকে ছুরিকাঘাত করে মেহেদী। এতে গলায় গুরুতর জখম হওয়া আমেনার চিৎকারে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে মেহেদীকে আটকে ফেলে। পরে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আমেনার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মেহেদীকে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় মেহেদী।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চুরি ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ওঠার পর বাবুল দেওয়ানের বাড়িতেই বেঁধে রাখা হয়েছিল মেহেদীকে। পরে পুলিশ আসলে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আহত নারীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী অভিযুক্তকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, অভিযুক্তকে ওই বাড়ি থেকে বের করে পুলিশের গাড়িতে তোলার পথে ছিনিয়ে নেন বিক্ষুব্ধরা। পরে তাকে রাস্তায় ফেলে এলোপাতাড়ি লাথি, কিল-ঘুষি ও ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
যদিও জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর পরপরই এই ঘটনা ঘটে। আমরা তাকে সম্পূর্ণভাবে হেফাজতে নিতেও পারিনি, তার আগেই বিক্ষুব্ধ লোকজন এই ঘটনা ঘটায়।’
ময়নাতদন্তের জন্য দুজনের মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং উভয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ই আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তা।