
সিরাজগঞ্জে এবার ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। মাঠজুড়ে সবুজ ভুট্টার সমারোহ সৃষ্টি হয়েছে। এ সমারোহে বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকেরা খুশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলার প্রায় ১৪ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। এ চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। রোপা আমন ধান কাটার পর বেশিরভাগ জমিতে ভুট্টার চাষ শুরু হয়। এ জেলার বিভিন্ন স্থানে কম বেশি এ চাষাবাদ করা হয়েছে। তবে বিশেষ করে উল্লাপাড়া, চৌহালী, কামারখন্দ, তাড়াশ, কাজিপুর ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষের বিস্তার বেশি। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, ধানের তুলনায় ভুট্টা চাষে খরচ কম লাভ বেশি। জমিতে সারিবদ্ধভাবে ভুট্টার বীজ রোপণ করা হয়। এরইমধ্যে অনেক জমিতে ভুট্টার থোর বের হয়েছে। এতে মাঠজুড়ে সমারোহ সৃষ্টি হয়েছে। দেড় মাসের মধ্যে সোনালি রঙের এই লাভজনক ফসল ঘরে তুলবে কৃষকেরা। উৎপাদিত ভট্টা বিশেষ করে গো খামার ও মুরগির খামারের অন্যতম খাদ্য এবং ভুট্টার আটাসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাদ্য তৈরি হয়ে থাকে। যে কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন হাট-বাজারে ভালো দামে বিক্রি হয়ে থাকে। ভুট্টার গড় উৎপাদন প্রতি বিঘায় ২৭ থেকে ২৮ মণ হতে পারে এবং ভুট্টার দানা ছাড়াও এর পাতা গবাদি পশুর খাদ্য ও গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। এ চাষে খরচ কম হওয়ায় এটি ধানের তুলনায় বেশি লাভজনক বলে দাবি করেন কৃষকেরা। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মওলা জানান, এ চাষাবাদে প্রান্তিক কৃষকদের উৎসাহিত করতে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা এ চাষে কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবার ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।