
ভোক্তা পর্যায়ে আবারও বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর দাম। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম জানুয়ারি মাসের তুলনায় ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এই মূল্য সমন্বয়ের কথা জানায়। এ নিয়ে টানা দুই মাস গৃহস্থালি জ্বালানির দাম বাড়াল কমিশন।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি এই সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে দুই মাসের ব্যবধানে গ্রাহকদের খরচ বাড়ল ১০৩ টাকা। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়িয়ে ৬২ টাকা ১৪ পয়সা (ভ্যাটসহ) নির্ধারণ করেছে কমিশন। গত মাসে এই দাম ছিল ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা। এছাড়া বাসাবাড়িতে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবহৃত রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১০৫ টাকা ৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০৯ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়েছে।
বিইআরসি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে নিয়মিত মূল্য ঘোষণা করলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও সংশয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারি নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ সরকারি দরের চেয়ে প্রায় ১ হাজার টাকা অতিরিক্ত মূল্যে গ্যাস কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনা করে প্রতি মাসে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা করা হয়েছিল। তার আগে একবার আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে ২৬ টাকা কমিয়ে দাম ১ হাজার ২১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন রমজানের আগে এলপিজি আমদানি বাড়িয়ে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা চলছে। তবে টানা দুই মাস দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ আরও ঘনীভূত হলো।