ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নির্ধারিত দামের বাইরে এলপিজি বিক্রি, ভোক্তারা বিপাকে

নির্ধারিত দামের বাইরে এলপিজি বিক্রি, ভোক্তারা বিপাকে

সরকার নির্ধারিত দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পাওয়া যাচ্ছে না। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা। খুচরা পর্যায়ে দোকানভেদে সরকার ঘোষিত দামের চেয়ে দ্বিগুন অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আর এলপিজি সংকট নিরসহ সহসায় মিলছে না। কারণ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা গ্যাস সরবরাহ করতে পারেননি। উল্টো আমদানি কমেছে।

দেশে এক কোটির বেশি গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করেন। বর্তমানে নির্ধারিত দরের চেয়ে প্রতি সিলিন্ডারে (১২ কেজি) ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন এলপিজি বিক্রেতারা। রাজধানীর মিরপুরের দক্ষিণ পাইকপাড়ার বাসিন্দা সাহানা সাত্তার বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে কোথাও এলপিজি পাওয়া যায় না। সোমবার একটি সিলিন্ডার (১২ কেজি) কিনেছেন ২ হাজার ৩০০ টাকায়।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বরে এলপিজি আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ২৬ হাজার টন। সরবরাহ স্বাভাবিক করতে জানুয়ারিতে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ টন এলপিজি আমদানির কথা ছিল। আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টন। ফেব্রুয়ারিতে আমদানি কিছুটা বাড়তে পারে। আমদানিকারকেরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হতে মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে ঋণপত্র বা এলসি খোলা সহজ করাসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। চাহিদামতো আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। বাড়তি জাহাজভাড়া আমলে নিয়ে মূল্য সমন্বয় করেছে বিইআরসি। কিন্তু সব কোম্পানি আমদানি করতে পারেনি। কেউ কেউ ঋণপত্র খুলতে পারেনি।

বড় কোম্পানি বাড়তি দামে আমদানি করতে চাইলেও বৈশ্বিক খোলাবাজার থেকে এলপিজি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে অস্থিরতা চলছে। তাই বিকল্প বাজার খোঁজা হচ্ছে।

এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াবের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত মাসে হঠাৎ জ্বালানি বিভাগ থেকে এলপিজি আমদানির অনুমতি নেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তারা আমদানি করে বেসরকারি কোম্পানিকে সরবরাহ করার কথা। তাই ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ আমদানির উদ্যোগে জোর কমিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বিপিসি এখনও আমদানি শুরু করতে পারেনি। তাদের সক্ষমতা নিয়ে সংশয় আছে।

বিপিসি সূত্র বলছে, দ্রুত সংকট কাটাতে দুই সপ্তাহ আগে সরকারি পর্যায়ে এলপিজি আমদানির অনুমতি পেয়েছে বিপিসি। ইতিমধ্যে ১১টি দেশকে চিঠি দিয়েছে তারা। এসব দেশের আগ্রহ ও সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে তালিকা করা হবে। এরপর দাম নিয়ে আলোচনা করা হবে। এতে আমদানি করতে আরও সময় লাগবে।

অন্যতম শীর্ষ এলপিজি আমদানিকারক কোম্পানি ওমেরার পরিচালক ও লোয়াবের সাবেক সভাপতি আজম জে চৌধুরী বলেন, বিশ্বজুড়েই এলপিজির চাহিদা বাড়তি। তাই অনেকে এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে।

এদিকে চলমান সংকটের মধ্যেই ফেব্রুয়ারির জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করেছে বিইআরসি। গত সোমবার সংস্থাটির ঘোষণায় বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সংযোজন করসহ (মূসক/ভ্যাট) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ১১৩ টাকা ৪ পয়সা। ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। যদিও এ দরে এলপিজি পাওয়া যায় না। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, আইন অনুসারে দাম ঘোষণা করছে কমিশন। নির্ধারণ করা হয় বলেই বাড়তি নেওয়ার বিষয়টি বোঝা যায়। প্রতিশ্রুত পরিমাণে এলপিজি আমদানি না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কারণ জানতে কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত