
দিনাজপুরে লক্ষ্যমাত্রার ছড়িয়ে ভুট্টা চাষ ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৩৭০ সেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। জেলায় মোট ৭৫হাজার ৬২০ সেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে।
দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফজাল হোসেন ভুট্টা চাষের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, চলতি বছর জেলার ১৩টি উপজেলায় ৭২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষি বিভাগের প্রণোদনার আওতায় উন্নতমানের ভুট্টার বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহযোগিতা করায়,দিনাজপুর জেলায় ভুট্টার অতিরিক্ত ৩ হাজার ৩৭০ শত হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছ। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারে জেলায় ভুট্টার বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, গতবছর জেলায় প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ১১ মেট্রিক টন করে ভুট্টার ফলন উৎপাদন হয়েছে। গত বছর জেলার কৃষকরা ভুট্টা চাষ করে তারা কাটা পর কাঁচা ভুট্টা জমি থেকে ভালো মূল্যে বিক্রি করতে পেরেছে। অনেকেই কাঁচা ভুট্টা শুকানোর পর বিক্রি করে আরও অতিরিক্ত লাভ করেছে। গত বছর ভুট্টার ফলন ভালো হওয়ায় চলতি বছর জেলার কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছ। এবারের জেলার প্রতিত জমিসহ নদীর চর অঞ্চলে ভুট্টা চাষ বেশি হয়েছে। জেলার কৃষকদের দাবি নদীর চরে পতিত জমিগুলোতে ভুট্টা চাষে সেচ এর প্রয়োজন কম হয়। এজন্য কৃষকরা কৃষি বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে এসব জমিতে ভুট্টা চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি করেছে। ভুট্টা চাষে সফলতা এসেছে এবং ফলনও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, জেলায় অর্জিত ভুট্টা থেকে এবারে ৭ লাখ ৮০ হাজার থেকে সাড়ে লাখ মেট্রিক টন ভুট্টার ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনাজপুর গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট এর পরিচালক জানান, ভুট্টার নতুন উদ্ভাবন করা ভ্যারাইটির উন্নত জাতের বীজ কাবেরি-৫৪, এমকে- ৪০, পালোওয়ান, সুপার-২১ সাহিন-২৩ কাবেরী-৪৪, সিনজেনটা-৭৭২০ সহ বিভিন্ন জাতের ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। জেলার উপজেলাগুলোতে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে আগাম জাতের ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। বিশেষ করে জেলায় অবস্থিত নদীগুলোর দুই তীরে ভুট্টা ছাড়া অন্য কোনো ফসল চোখে কমই পরে।
জেলার বিরল উপজেলার ধুকুরঝারি গ্রামের আদর্শ কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি এবারে দেড় একর জমিতে কৃষি বিভাগের সরবরাহ করা উন্নত জাতের ভুট্টার চাষ করেছেন। ভুট্টার গাছে ফলন ভালো লক্ষ্য করা যাচ্ছ। আশা করি এবার ভালো ফোন পাওয়া যাবে। তার গ্রামসহ পার্শ্ববতী গ্রামগুলোতে কৃষকরা অনেকেই ভুট্টা চাষ করেছে। তাদের সকলেরই প্রত্যাশা এবারে চাহিদার সঙ্গে বাজার মূল্য ভালো পাওয়া যাব। অধিক লাভের আশায় এবার উপজেলায় আগাম জাতের ভুট্টা বেশি চাষ হয়েছে। জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: শরিফুল ইসলাম জানান, ভুট্টা থেকে মাছ ও মুরগির খাদ্য উৎপাদন এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি লাভজনক। তাই কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে সার ও বীজ।