ঢাকা রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মাছে ঊর্ধ্বগতি, ব্রয়লারে স্বস্তি

মাছে ঊর্ধ্বগতি, ব্রয়লারে স্বস্তি

সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের বাজারে বাড়তি দামের ধাক্কা লেগেছে। রুই, তেলাপিয়া কিংবা পাঙাশ- কোনো মাছই মিলছে না ২০০ টাকার নিচে। কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে দাম। তবে মাছের তুলনায় ব্রয়লারে বৃদ্ধি সীমিত থাকায় বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলছে। অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর মাংসের দাম। সরবরাহ সংকট ও বাড়তি চাহিদাকেই এ দামের ওঠানামার কারণ বলছেন ব্যবসায়ীরা। রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহ শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে মাঝারি আকারের রুই মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০০ টাকা। বড় আকারের রুই কিনতে কেজিতে আরও ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায়। পাঙাশ মাছের দামও বেড়ে এখন ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা রেজাউল করিম বলেন, বাজারে মাছের সরবরাহ কিছুটা কম। এর মধ্যে রোজার মাস চলছে। সব মিলিয়ে চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে।

বারিধারার পাশে জোয়ার সাহারা বাজারে নিয়মিত মাছ বিক্রি করেন সৌরভ হোসেন। দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘাট থেকে মাছ কিনে আনতে হয় আমাদের। সেখানে আমদানি বেশি থাকলে কম দামে পাওয়া যায়। আর সংকট দেখা দিলে বাড়তি দামে কিনতে হয়। ফলে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে আমাদের তেমন কিছু করার থাকে না।

এদিকে, ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। যদিও সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ২৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া সোনালি ও লেয়ার মুরগির কেজি এখন ৩০০ টাকা। এছাড়া দেশি মুরগি কিনতে ৬৮০-৭০০ টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কারওয়ান বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী ইয়াছিন হাওলাদার বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে তুলনামূলক চাহিদা বেশি থাকে। অনেকেই এ দুদিনে বেশি কেনাকাটা করেন। এজন্য সব ধরনের মুরগির কেজিপ্রতি কিছুটা দাম বেড়ে যায়। তবে অন্যান্য দিনে দাম স্বাভাবিক থাকে।

অন্যদিকে, গরুর মাংসের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। হাড়-চর্বিসহ প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। এছাড়া হাড় ছাড়া মাংসের কেজি ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকা। গুলশান কাঁচাবাজারে মাছ কিনতে আসা মারুফ হোসেন বলেন, রোজার মাস শুরু হতেই মাছের বাজারে বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে। এতে আমাদের চাপ বাড়ছে। ২০০ টাকার নিচে কোনো ধরনের মাছই মিলছে না। সাধারণ পাঙাশও এখন কেনা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে নাভিশ্বাস অবস্থা। ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান এলেই নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে মাছ কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত