ঢাকা সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

রংপুরে মাশরুম চাষে সাফল্য

রংপুরে মাশরুম চাষে সাফল্য

পুষ্টিগুণ ও ঔষধি বৈশিষ্ট্যের কারণে মাশরুমের কদর বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশেও মাশরুম চাষে নীরব বিপ্লব ঘটছে। রংপুরের কৃষি উদ্যোক্তা আবু সালেহ মো. জরজিস মাত্র ১৫টি স্পন নিয়ে শুরু করেছিলেন। এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে নানা জাতের মাশরুম উৎপাদন করে সফলতার মুখ দেখেছেন। পাঁচ বছর আগে স্বল্প পরিসরে শুরু করলেও জরজিস বর্তমানে ৫ থেকে ৬ ধরনের মাশরুম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করছেন। আমাদের দেশে ৮ থেকে ১০ রকমের মাশরুম চাষ হয়; তবে বর্তমানে আরও নতুন নতুন জাত বাজারে আসছে।

জরজিস আরও বলেন, আমি আমার প্রজেক্টে বাণিজ্যিকভাবে ৬ থেকে ৮টি জাতের চাষ করি। এর মধ্যে ওয়েস্টার, ব্ল্যাক, বোতাম, কান, শিতাকে, খড়, কিং ওয়েস্টার এবং পিংক কালার বা পপ মাশরুম অন্যতম। তবে বাজারে ওয়েস্টার মাশরুম চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। প্রাচীনকাল থেকেই সুস্বাদু ও ঔষধি খাবার হিসেবে মাশরুম বিবেচিত হয়ে আসছে। জরজিসের প্রজেক্টে অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেরা উদ্যোক্তা হচ্ছেন। প্রশিক্ষণ নিতে আসা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমি এখান থেকে মাশরুম চাষ শিখে বাসায় ২-৩ রকমের মাশরুম চাষ করছি। পাশাপাশি মাশরুমের বিভিন্ন রেসিপি যেমন- চপ, মোগলাই, কেক, পুডিং ও ফ্রাই তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছি। এতে আমার সংসারে ভালো আয় আসছে।

আরেক নারী উদ্যোক্তা চায়না বেগম বলেন, গত দুই মাস ধরে আমি প্রশিক্ষণ নিচ্ছি এবং বাসায় পরীক্ষামূলকভাবে ওয়েস্টার, কান, ব্ল্যাক ও বোতাম মাশরুম চাষ করছি। গৃহিণী হওয়ায বাসার সারাদিনের কাজের শেষে অল্প সময় দিয়েই ভালো আয় হচ্ছে এবং অবসর সময়ও চমৎকার কাটছে।

মাশরুমকে অনেকে ‘সবজির প্রোটিন’ বলে থাকেন। এতে ভিটামিন সি, বি কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও কম মাত্রায় লৌহ রয়েছে। কৃষি উদ্যোক্তা জরজিস জানান, এটি এমন একটি উদ্ভিদ যা চাষ করতে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক লাগে না, তাই এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।

তিনি বলেন, মাশরুম মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যে রোগী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রতিদিন ইনসুলিন নিচ্ছেন, তিনি যদি নিয়মিত বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মাশরুম খাবার হিসেবে গ্রহণ করেন, তাহলে তার ইনসুলিন নেওয়ার মাত্রা কমে আসবে এবং ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে। এছাড়া হৃদযন্ত্রের সুস্বাস্থ্য, উচ্চ রক্তচাপ, টিউমার ও ক্যানসার প্রতিরোধেও মাশরুম খুব উপকারী।

রংপুর সদরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হাসান বলেন, ছত্রাক জাতীয় পরজীবী উদ্ভিদ মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি। কৃষি বিভাগ এর সম্প্রসারণ নিয়ে কাজ করছে এবং উদ্যোক্তাদের ট্রেনিং সেন্টার বা হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

রংপুর হরর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোছাৎ সায়রা বানু জানান, মাশরুম চাষে ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবছর রংপুর হরর্টিকালচার সেন্টারের থেকে মাসরুম চাষ নিয়ে বেকারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সফল মাসরুম চাষি তৈরি করা হয়। তিনি বলেন ২০২৩-২৪ সালে ১২ জন, ২০২৪-২৫ সালে ১৬ জন, ২০২৫-২৬ সালে ১০ জন প্রশিক্ষণ নিয়েছে। তিনি বলেন এ সময় মোট উদ্যোক্তা ৩৮ জন তৈরি হয়েছে। রংপুর জেলায় মোট ১১৪০ জন চাষি মাশরুম চাষ করছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত