ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কমেছে তেলের দাম, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ফল

কমেছে তেলের দাম, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ফল

গতকাল বুধবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চলবে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বাজারে তেলের দাম কমেছে।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, তেহরান ‘সমন্বিত প্রস্তাব’ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র।

গতকাল বুধবার দিনের শুরুতে দাম বাড়লেও পরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ২০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮৯ দশমিক ২১ ডলারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানো শুরু করার পর থেকে জ্বালানিবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেয়। দুই সপ্তাহের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার ওয়াশিংটন সময় সন্ধ্যায় শেষ হওয়ার কথা। তবে এ মেয়াদ বাড়ানো হলেও নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেননি ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সরকার ‘গুরুতরভাবে বিভক্ত’। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তেহরানকে আলোচনায় রাজি করাতে আরও সময় চাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আপাতত নতুন হামলা থেকে বিরত থাকবে বলেও জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদে যাওয়ার কথা ছিল। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তিনি আর সেখানে যাচ্ছেন না।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠাবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবিসিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জিয়াজিয়া ইয়াং বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এরপর কী মোড় নিতে পারে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীরা সতর্ক অবস্থানে আছেন। তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু তেল সরবরাহের বিষয় নয়; বরং বাজারের প্রত্যাশার বিষয়।’

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের দাম বেড়েছে। কেননা বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, তা কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এর আগে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে আসা জাহাজগুলোও তারা আটক করবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত