ঢাকা রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দুই দিনে ভার্চুয়াল কোর্টে ৭৭৩ মামলা নিষ্পত্তি

দুই দিনে ভার্চুয়াল কোর্টে ৭৭৩ মামলা নিষ্পত্তি

দুই দিনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে ‘ভার্চুয়াল কোর্টে’ ৭৭৩টি মামলা নিষ্পত্তি এবং দুই হাজার ১৬৭টি মামলার শুনানি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে প্রতি সপ্তাহে বুধ ও বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত জানিয়ে গত ২১ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি দেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। এরপর বুধবার ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ চলে। আর গত দুই দিনে ভার্চুয়াল কোর্টে বিচারকাজের তথ্য জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেন গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে শুনানির মাধ্যমে আপিল বিভাগে ভার্চুয়াল কোর্টে ৯৫টি মামলা শুনানি ও ২১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আর হাইকোর্ট বিভাগে ৬১২টি মামলা শুনানি ও ১৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ৭০৭টি মামলার শুনানি ও ১৭৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

একইভাবে গতকাল বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগে (চেম্বার জজ আদালতসহ) ১৮৯টি মামলা শুনানি ও ৯৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। আর হাইকোর্ট বিভাগে ১২৭১টি মামলা শুনানি ও ৫০১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। উভয় বিভাগে ১৪৬০টি মামলা শুনানি ও ৫৯৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

এদিকে গতকালও ভার্চুয়াল কোর্ট বন্ধের দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন সুপ্রিম কোর্টের একদল আইনজীবী। সমাবেশ থেকে বলা হয়, আগামী সোমবারের মধ্যে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে মঙ্গলবার থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

২০২০ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এ সময় দেশের সব স্তরের আদালতেও ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর ফলে বিচারকাজ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বিচারকাজ বন্ধ থাকায় মামলার জট বাড়তে থাকে।

জরুরি জামিন বা আইনি প্রতিকারের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। এ অচলাবস্থা নিরসনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালত পরিচালনার আইনগত ভিত্তি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই বছর ৯ মে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০’ জারি করেন।

পরে এ সংক্রান্ত প্র্যাকটিস নির্দেশনা জারি করে সুপ্রিম কোর্ট। এর মাধ্যমে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই ভিডিও কনফারেন্সিং বা তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনার আইনি বৈধতা দেওয়া হয়। অধ্যাদেশ জারির পরদিন, অর্থাৎ ২০২০ সালের ১০ মে থেকে দেশের বিচার বিভাগে প্রথম যাত্রা শুরু হয় ভার্চুয়াল কোর্টের। পরে একই বছরের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে এই অধ্যাদেশটি বিল হিসেবে পাস হলে তা স্থায়ী আইনে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত