ঢাকা রোববার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর লাশ ডোবায় ফেলেছেন স্ত্রী : পুলিশ

শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর লাশ ডোবায় ফেলেছেন স্ত্রী : পুলিশ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় জিয়া উদ্দিন সরদার (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার পর তার লাশ টুকরা করে স্ত্রী নদী ও ডোবায় ফেলেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্ত্রী আসমা আক্তারকে গত শুক্রবার রাতে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ তথ্য পায়।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, আসমা গত মঙ্গলবার তার স্বামীকে হত্যার পর লাম থেকে হাত-পা টুকরা করে মাংস আলাদা করে ফেলেন। এর কিছু অংশ তিনি পদ্মা নদীতে ফেলে দেন, কিছু অংশ একটি সড়কের পাশের ডোবায় ফেলেন। কিছু অংশ একটি ড্রামে ভরে আরেক বাসার ফ্রিজে রাখতে গেলে দুর্গন্ধে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সব কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ডোবা থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে, আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

জিয়া উদ্দিন সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকার আবদুর রাজ্জাক সরদারের ছেলে। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। আসমার সঙ্গে তার আট বছর আগে বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে আসমা তার স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে দাবি পুলিশের। পালং মডেল থানা সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে জিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে পরিচয় হয় পিরোজপুরের মেয়ে আসমা আক্তারের। তখন তারা দুজনেই বিবাহিত ছিলেন। দুজনের সংসারে দুটি করে সন্তান ছিল। ওই অবস্থায় জিয়া ও আসমা আগের সংসার থেকে বের হয়ে নতুন সংসার করেন। গত বছরের মে মাসে জিয়া মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য ও ঝগড়া হতে থাকে। নিহত জিয়ার চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সঙ্গে ভাইয়ের স্ত্রী যোগাযোগ রাখতেন না। গত বছর ভাই দেশে ফিরে আসার পর আমাদের পাশের গ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। কোরবানির ঈদের পর ভাই মালয়েশিয়া ফিরে যেতেন, এমন প্রস্তুতি ছিল। তার আগেই ভাবি ভাইকে হত্যা করে ফেলল। কেন এমন করল, বুঝতে পারছি না।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত