ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মমতাকে বিধানসভায় নিতে প্রস্তাব হুমায়ুন কবীরের

মমতাকে বিধানসভায় নিতে প্রস্তাব হুমায়ুন কবীরের

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ গড়ার আন্দোলনের নেতা হুমায়ুন কবীর তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দল আমণ্ডজনতা উন্নয়ন পার্টি গড়ে এবার বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন দুটি আসনে। একটি আসন ছেড়ে দিতে হয়েছে তাকে। নিজের সাবেক নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘গুরুদক্ষিণা’ দিতে সেই আসন থেকে জিতিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। হুমায়ুন কবীর গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নির্বাচনে জিততে না পারলেও তাকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় প্রয়োজন। তাই মমতা যদি তাকে অনুরোধ করেন, তবে তার ছেড়ে দেওয়া রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন করে তাকে জিতিয়ে আনার সর্বশক্তি নিয়োগ করবেন তিনি। দেড় দশক পর এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যের ক্ষমতা হারিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি প্রথম এল এই রাজ্যের ক্ষমতায়। বিজেপির রাজ্য সরকারের যিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, সেই শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরেছেন মমতা। ফলে বিধানসভায় তার থাকার সুযোগ নেই।

এর মধ্যে তৃণমূলেও দেখা দিয়েছে ভাঙনের ইঙ্গিত। মমতা বিধানসভায় বিরোধী নেতা হিসেব শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়েক মনোনীত করলেও দলটির বিধায়কদের বড় অংশের বিদ্রোহে বিরোধী নেতা হয়েছেন ঋতব্রত চট্টোপাধ্যায়, যাঁকে মমতা সম্প্রতি দল থেকেই বহিষ্কার করেন।

মমতার অনুপস্থিতিতে যখন বিধানসভায় তৃণমূলের নেতা হিসেবে ঋতব্রতর নাম ঘোষণা হয়েছে, তখনই মমতাকে বিধানসভায় নেওয়ার প্রস্তাব দিলেন হুমায়ুন কবীর। এই হুমায়ুন কবীর একসময় তৃণমূল কংগ্রেসে মমতার বেশ কাছের লোক ছিলেন। রাজ্য সরকারে মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। কিন্তু গত বছর নিজের জেলা মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের রোষে পড়েন তিনি। এরপর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন মমতা। হুমায়ুন তখন ‘আমণ্ডজনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করে তার নতুন রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন।

হুমায়ুন কবীর এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে দুটি আসন রেজিনগর ও নওদায় লড়ে জয়ী হন। রেজিনগরে তিনি বিজেপি প্রার্থী বাপন ঘোষকে ৬৪ হাজার ৬৬০ ভোটে এবং নওদায় বিজেপি প্রার্থী রানা মণ্ডলকে ২৭ হাজার ৯৪৩ ভোটে হারান। নওদা আসন রেখে রেজিনগর আসন ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। সেখানে এখন উপনির্বাচন হবে।

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা কলকাতার ভবানীপুরের নিজের আসনে হেরেছেন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনেও জয়ী হয়েছেন। তবে তিনি ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম আসন ছেড়েছেন। ফলে উপনির্বাচন হবে নন্দীগ্রামে, যেখানে ২০২১ সালের নির্বাচনে হেরেছিলেন মমতা। তবে ভবানীপুরে জিতে বিধানসভায় গিয়েছিলেন।

হুমায়ুন কবীর সাংবদিকদের বলেন, ‘দিদি এবার জিততে পারলেন না তার নিজের আসনে। দিদি যদি চান এবং নিজে থেকে বলেন, আমাকে বিধানসভায় যাওয়ার সুযোগ করে দাও; তবে আমি দিদির ডাকে সাড়া দিয়ে তাকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে আনব।’ হুমায়ুন কবীরের এই ডাকে মমতা সাড়া দেবেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি।

এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের হারের জন্য মমতার পারিবারিক শাসনের প্রয়াসকেই দায়ী করেন দলটির সাবেক নেতা হুমায়ুন কবীর। হুমায়ুন কবীর বলেন, এটা সবাই জানে, মমতার লক্ষ্য ছিল, তিনি তার ভাইপো সংসদ সদস্য ও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছিলেন। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে মমতা তৃণমূলের ঘুঁটি সাজিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবার অঙ্ক কষে ভোট দিয়ে মমতার চতুর্থবারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত