
দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার কৃষকরা রবি শস্যের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন বেগুন চাষে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলা কৃষি বিভাগের মাঠকর্মী রাশেদ হাসান বলেন, চলতি গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে বেগুনের বাম্পার ফলন এবং মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত বেগুনের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন এবং বেগুন বিক্রিতে কোনো ধরনের ঝামেলা না থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন। প্রতিদিন পাইকাররা তাদের খেত থেকে বেগুন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
জেলার খানসামা উপজেলার ভাবকি গ্রামের কৃষক সায়েদ আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিক লাভের আশায় গত দুই বছর ধরে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শে উপজেলার অনেক কৃষক আগাম জাতের গ্রীষ্মকালীন বেগুন চাষ করছেন। গ্রীষ্মকালীন অধিক ফলনশীল ও উন্নত আগাম জাতের বেগুন চাষে কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। তবে চলতি বছর জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পাইকারি বাজারে বেগুনের সরবরাহ বেশি থাকায় আগের তুলনায় দাম কিছুটা কম পাচ্ছেন চাষিরা। তারপরও তারা হতাশ নন।
কৃষকদের ধারণা, দাম কম-বেশি হলেও তাদের বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে না। তবে গত বছরের তুলনায় মুনাফা কিছুটা কম হতে পারে। কারণ, এ বছর গ্রীষ্মকালীন বেগুন চাষি কৃষকের সংখ্যা বেড়েছে, ফলে বাজারে বেগুনের সরবরাহও বৃদ্ধি পেয়েছে। বেগুন চাষিরা জানান, মৌসুমের শুরুতে তারা প্রতি মণ বেগুন ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তবে গত কয়েক দিন ধরে সেই দাম কমে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মণে নেমে এসেছে। কৃষকরা বলেন, এক সপ্তাহ আগেও তারা প্রতি মণ বেগুন ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে প্রতি মণ বেগুন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলন ভালো থাকায় মুনাফা কিছুটা কম হলেও লাভের আশা রয়েছে।
আগামী আশ্বিন মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন বেগুন বাজারজাত করা যাবে বলে তারা আশা করছেন। সে লক্ষ্যে ক্ষেতের নিয়মিত পরিচর্যাও করছেন।
উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের সুবর্ণখুলি গ্রামের বেগুনচাষি রেজাউল ইসলাম বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে গত দুই বছর ধরে গ্রীষ্মকালীন বেগুন চাষ করছি। এ বছর এক বিঘা জমিতে বেগুন আবাদ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। আরও প্রায় দেড় মাস ক্ষেতের বেগুন বিক্রি করতে পারব। তবে বাজারে হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছি। তবুও ফলন ভালো হওয়ায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বেগুন ক্ষেতে রোগবালাই না থাকলে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে এক বিঘা জমি থেকে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করা সম্ভব। সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হয়। তবে এ বছর কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো থাকলেও বর্তমানে লাভ কিছুটা কম হচ্ছে। তবে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না।
জেলার খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বাসসকে বলেন, চাষিদের বেগুন চাষে উদ্বুদ্ধ করা এবং বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়ার ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা বেগুন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ অঞ্চলের মাটি বেগুন চাষের উপযোগী হওয়ায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে বেগুনের আবাদ হয়েছে। অধিকাংশ কৃষক শুরুতেই ভালো দাম পেয়েছেন। বর্তমানে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। তারপরও চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না।
কৃষি বিভাগ কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য নিয়মিত মনিটরিং করছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এ বছর খরার মাত্রা বেশি থাকায় বেগুনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষও ব্যাপকভাবে হয়েছে। এখানকার বেগুন জেলার চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। কৃষকদের কাছ থেকে পাইকাররা সরাসরি বেগুন সংগ্রহ করছেন। তবে মৌসুমের শুরুতে বাজার ভালো থাকলেও গত দুই-তিন দিনে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে।