
বর্ষা এলেই অনেকের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসে। গরম গরম ভাজাপোড়া, মুখরোচক নাশতা কিংবা কম শারীরিক পরিশ্রমের কারণে এ সময় রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষ করে যাদের হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তে চর্বির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই সময়টা বাড়তি সতর্কতার।
তবে সুসংবাদ হলো, বর্ষার মৌসুমি কিছু ফল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে স্বাভাবিকভাবেই হৃদস্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া সহজ হতে পারে। এই বর্ষায় সুস্থ থাকতে কোন কোন ফল খাবেন জেনে নিন-
পেয়ারা : বর্ষার অন্যতম সহজলভ্য ও পুষ্টিকর ফল পেয়ারা। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ। এসব উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে নিয়মিত পেয়ারা খাওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক বলে মনে করা হয়।
নাশপাতি : নাশপাতিতেও রয়েছে পেকটিন নামের বিশেষ ধরনের দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ। এটি অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণের পরিমাণ কমিয়ে শরীর থেকে তা বের করে দিতে সহায়তা করে। ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নাশপাতি হতে পারে একটি ভালো প্রাকৃতিক খাদ্য।
কলা : প্রতিদিনের পরিচিত ফল কলাও হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারি। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এর খাদ্যআঁশ শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া হৃদস্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
জাম : বর্ষার আরেকটি জনপ্রিয় ফল জাম। এতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান, যা রক্তনালির প্রদাহ কমাতে এবং স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন বজায় রাখতে সহায়তা করে। এ কারণে হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার খাদ্যতালিকায় জামও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারে।
জামরুল : এই ফলে রয়েছে নিয়াসিন ও খাদ্যআঁশ, যা ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে এবং উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। ফলে নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে জামরুল খাওয়াও হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী অভ্যাস হতে পারে।
শুধু এসব ফলই নয়, লেবু বা বাতাবিলেবুর মতো টকজাতীয় ফলও কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এসব ফলে থাকা ভিটামিন সি ও খাদ্যআঁশ যকৃতের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং চর্বির বিপাক প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে আপেল ও আনারসে থাকা দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ এবং ব্রোমেলিন নামের এনজাইম রক্তনালিতে চর্বি জমার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তবে শুধু ফল খেলেই কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ফলের ধরন ও পরিমাণ নির্ধারণের আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বর্ষার মৌসুমি ফল শুধু স্বাদের জন্য নয়, সঠিকভাবে বেছে খেলে তা হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টাকেও আরও কার্যকর করে তুলতে পারে। তাই এই মৌসুমে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তত একটি মৌসুমি ফল রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা হতে পারে সুস্থ জীবনের একটি সহজ কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ।