
অতিরিক্ত বৃষ্টি, খরা, আগাছা, রোগবালাই ও উৎপাদন খরচ- কৃষিতে দীর্ঘদিনের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ। আধুনিক এই প্রযুক্তিতে জমিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ ও সেচের পানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি কমানো যাচ্ছে শ্রম ও উৎপাদন খরচ। ফলে প্রচলিত চাষাবাদের পাশাপাশি এ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ছে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি ও উচ্চমূল্যের ফসলের আবাদ।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শসা, টমেটো, মরিচ, বেগুন, চিচিঙ্গা, করলা, লাউ, তরমুজসহ বিভিন্ন সবজি ও উচ্চমূল্যের ফসল চাষে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে শীতকালীন ও খরিপ মৌসুমে আগাম সবজি উৎপাদনে এ পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ছে। মালচিং পদ্ধতিতে জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে বেড তৈরি করে ফসলের গোড়ার চারপাশে বিশেষ ধরনের পরিবেশবান্ধব পলিথিন বা মালচিং পেপার বিছিয়ে দেওয়া হয়। এতে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘসময় ধরে রাখা যায়। একইসঙ্গে সূর্যের আলো সরাসরি মাটিতে না পৌঁছানোয় আগাছার বৃদ্ধি কমে। মাটির তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে থাকায় ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে এ পদ্ধতি। পাশাপাশি সার ও সেচের পানির অপচয়ও কমানো সম্ভব হয়। স্বাভাবিক চাষাবাদের তুলনায় ফলনও বেশি হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের সোনারহাট এলাকার কৃষক মাসুদ রানা বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ কৃষি কাজ করে আসছি। বর্তমানে মালচিং পেপার ব্যবহার করে লাউ, করলা, বেগুন ও চিচিঙ্গা চাষ করছি। আগের তুলনায় খরচও কম হয় ফলনও ভালো পাচ্ছি। আমার দেখাদেখি এলাকায় আরও কয়েকজন মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেছে।
আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের কৃষি উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পেপার ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করা অনেক সহজ। এ পদ্ধতিতে শ্রমিক খরচসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় কমে যায়। তা ছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সহজে ফসল নষ্ট হয় না।
একই উপজেলার দারোগার বাজার এলাকার কৃষক দীন ইসলাম বলেন, মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করলে খরচ কম হয় এবং ভালো ফলন পাওয়া যায়। তবে কৃষি বিভাগ যদি বাজারে উন্নতমানের বীজ ও সঠিক কীটনাশকের সরবরাহ নিশ্চিত করে, তবে এ পদ্ধতিতে ফসল ফলিয়ে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।
কমলাবাড়ী এলাকার কৃষক হাসেন আলী বলেন, অতিবৃষ্টি ও প্রখর রোদের কারণে আমরা আগে লাভজনকভাবে সবজি উৎপাদন করতে পারতাম না। কিন্তু জমিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করায় তা রোদ ও বৃষ্টি সহনশীল হচ্ছে। পাশাপাশি সেচ সুবিধা ভালো পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলনও ভালো হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউল আলম বলেন, কৃষিতে মালচিং ব্যবহার একটি ভালো দিক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে ফসলের রোগবালাই কম হয় জমিতে দেওয়া সার নষ্ট হয় না এবং ভালো ফলন আশা করা যায়।