ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মাছ-মাংসের দাম আগের মতোই সবজি-ডিমে কিছুটা স্বস্তি

মাছ-মাংসের দাম আগের মতোই সবজি-ডিমে কিছুটা স্বস্তি

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এখনও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। মাছ ও মাংসের দাম প্রায় আগের অবস্থাতেই রয়েছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনপ্রতি ডিমের দাম কমেছে ১০ টাকা। একই সঙ্গে টানা বৃষ্টিতে বাড়তে থাকা সবজির দামও গত দুই সপ্তাহ ধরে কমতে শুরু করেছে। বেশিরভাগ সবজি এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে মৌসুম শুরু না হওয়ায় শিমসহ কয়েকটি সবজি এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিন দেখা যায়, গত সপ্তাহে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিম এখন ১৪০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দামও কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন নেই। সোনালি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস আগের মতোই ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিক্রেতাদের মতে, কোনো কোনো মাছের দাম একদিনে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিন আবারও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারে মাছের দাম স্থির থাকছে না।

বর্তমানে পাঙাশ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, চিংড়ি মানভেদে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।

রায়সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে মাছের দাম বাড়ার মূল কারণ হলো সরবরাহ ও চাহিদার ওঠানামা। আড়ত থেকে যে দামে মাছ কিনে আনছি, তার ওপর নির্ভর করেই খুচরা দাম নির্ধারণ করতে হচ্ছে। কিছু মাছের দাম কমলেও তেলাপিয়া, পাঙাশ ও দেশি মাছের দামে এখনো ক্রেতাদের স্বস্তি নেই।’

রায়সাহেব বাজারে বাজার করতে আসা তুহিন মিয়া বলেন, ‘ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও মাছের দামে তেমন স্বস্তি নেই। একেক দিন একেক দামে মাছ বিক্রি হচ্ছে। কয়েক মাস আগের তুলনায় পাঙাশ ও তেলাপিয়ার দামও বেড়েছে। সবজির দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি পেয়েছি, তবে শিম, টমেটো ও গাজরের মতো কয়েকটি সবজির দাম এখনো বেশি। সব মিলিয়ে বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি।’

অন্যদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে কয়েক সপ্তাহ আগে বেড়ে যাওয়া সবজির দাম এখন কমতে শুরু করেছে। বাজারে বেশিরভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে শিমের মৌসুম এখনো শুরু না হওয়ায় এটি সর্বোচ্চ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া টমেটো ও গাজরের মতো কয়েকটি সবজির সরবরাহ কম থাকায় ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমানে পটল ৭০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা ও চিচিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুন ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, শিম ২০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা ৪০ টাকা হালি এবং লাউ ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত দুই-তিন সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে সবজির বাজার অনেকটাই কমেছে। তখন দাম বেশি থাকায় অনেক ক্রেতাই প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণ করে সবজি কিনতেন। এখন অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে শিমের মৌসুম শুরু না হওয়ায় এর দাম ২০০ টাকা। আর টমেটো ও গাজর মৌসুমি না হওয়ায় ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে সবজির দাম আরও কিছুদিন এই পর্যায়েই থাকবে।’ ধুপখোলা বাজারে বাজার করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী রনি মিয়া বলেন, ‘আগের তুলনায় সবজির দাম এখন অনেকটাই কম। বেশিরভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে শিম ২০০ টাকা এবং টমেটো, গাজরসহ কয়েকটি সবজি ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তারপরও সামগ্রিকভাবে সবজির বাজার আগের চেয়ে কিছুটা স্বস্তিদায়ক মনে হচ্ছে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত