
মা হওয়ার যাত্রার শুরুটা হয় শিশুগর্ভে আসার সঙ্গে সঙ্গেই। একজন মাকে পুরোটা সময় নানারকম প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হতে পারে। গর্ভাবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন আসে এবং প্রথম কয়েক সপ্তাহে যা আরামদায়ক বা উপযুক্ত মনে হয়, পেট বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আর কার্যকর না-ও থাকতে পারে। যদিও গর্ভাবস্থাজুড়ে কিছু সাধারণ নিয়ম প্রযোজ্য, তবে প্রতিটি ট্রাইমেস্টারে ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টিগত, শারীরিক এবং মানসিক চাহিদা দেখা দেয়।
প্রথম ত্রৈমাসিক : গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিক, অর্থাৎ গর্ভধারণ থেকে প্রায় ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত, শিশুর বিকাশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে আপনার শিশুর প্রধান অঙ্গগুলো গঠিত হতে শুরু করে এবং একইসঙ্গে আপনি বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, স্তনে ব্যথা এবং মেজাজের পরিবর্তন অনুভব করতে পারেন।
প্রসবপূর্ব যত্ন আগে থেকেই শুরু করুন : আপনি গর্ভবতী হয়েছেন জানার সঙ্গে সঙ্গেই আপনার প্রথম অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করুন এবং আপনার ডাক্তারের সঙ্গে বিদ্যমান কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা ওষুধের বিষয়ে আলোচনা করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নির্ধারিত ওষুধ খাওয়া বন্ধ করবেন না।
ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করুন : সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মতে, সাধারণত কমপক্ষে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি স্পাইনা বাইফিডার মতো নিউরাল টিউব ডিফেক্টের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। কোনো কোনো নারীর ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি ডোজের প্রয়োজন হতে পারে, তাই আপনার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।
অল্প পরিমাণে ও সুষম খাবার খান : যদি বমি বমি ভাব আপনাকে কষ্ট দেয়, তবে অল্প পরিমাণে এবং ঘন ঘন খাবার খাওয়া সহজ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় খাদ্যতালিকায় শাক-সবজি, ফল, শস্যদানা, ডাল, দুগ্ধজাত খাবার বা এর উপযুক্ত বিকল্প এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।