
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া এলাকার কৃষক আব্দুর ছাত্তার মাচায় উন্নত জাতের দেশি পটোল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তিনি কয়েক বছর ধরে দেশি জাতের পটোল চাষ করে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষক ছাত্তারের মুখে হাসি ঝরছে। দেশি পটোল চাষ করে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছেন এই কৃষি উদ্যোক্তা। তার সফলতা দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন ওই এলাকার অনেক কৃষক।
পটোল চাষি আব্দুর ছাত্তার বলেন, ২০ শতাংশ জমিতে পটোল চাষে শ্রেণিভেদে ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তাঁর। এ পর্যন্ত তিনি ৮০ হাজার টাকার পটোল বিক্রি করেছেন। তাঁর খেত থেকে সপ্তাহে প্রায় ৪-৫ মণ পটোল তোলা হয়। পাইকারি ব্যবসায়ীরা মাঠ থেকেই পটোল নিয়ে যান। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পটোল চাষের ওপর প্রশিক্ষণ, সার, ফেরোমান ফাঁদ ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি জানান, তার খেত থেকে পটোল উত্তোলন করা যাবে পুরো মাসজুড়েই। অন্যান্য ফসল থেকে পটলে বেশি লাভ হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে পটলের আবাদ করবেন। কালীগঞ্জ কৃষি অফিসার তুষার কান্তি বলেন, পটলের জমিতে সাধারণত হেলেঞ্চা, দুর্বা, দণ্ডকলস এসব আগাছার উপদ্রব দেখা যায়। এসব আগাছা জমি থেকে খাদ্যগ্রহণ করে পটোল গাছকে দুর্বল করে দেয়। ফলে পটলের ফলন কমে যায়। তাই পটলের জমি সব সময় আগাছামুক্ত রাখার পরামর্শ দেন তিনি। তুষার কান্তি আরও বলেন, আধুনিক কৃষি পদ্ধতি প্রয়োগ করে কৃষক আব্দুর ছাত্তারের দেশি উন্নত জাতের পটোল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মতিউল আলম বলেন, পটোল জনপ্রিয় সবজি। সারা বছর ধরেই কম-বেশি পাওয়া যায়। এ জেলায় পটোল চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। পটোল চাষের ওপর কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সার, ফরোমন ফাঁদ ও আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।