ঢাকা শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের লক্ষ্য

* তফসিল ঘোষণা হতে পারে সেপ্টেম্বরের মধ্যে : সিইসি * নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের লক্ষ্য

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চলতি বছর শুরু হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেক্ষেত্রে আগামী সেপ্টেম্বরে তফসিল দিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট করার পরিকল্পনা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল আগামী সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করা হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তফসিল ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশন মাঠে নামতে পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্বয়ের জন্যও সংশ্লিষ্ট কমিশনারকে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। আমার মনে হয়, আমরা সেপ্টেম্বরের মধ্যে একটা তফসিল দিতে পারব। তবে নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণে দুর্গাপূজা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, আইনগত সময়সীমাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এটা নিশ্চিত যে, আমাদের এ বছরের মধ্যে শুরু করতে হবে। আইনি বিষয় আছে এখানে। এই বছরের মধ্যে শুরু করতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোট ডিসেম্বরের দিকে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা দ্রুত শেষ করা সম্ভব হলে নভেম্বরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আমাদের সময়ের স্লট খুবই শর্ট। এরপর রমজান চলে আসবে। রমজানের পরে ঈদুল আজহা, তারপর বর্ষাকাল— নানাবিধ জটিলতা আছে। সবকিছু মিলিয়েই আমাদের নির্বাচন করতে হবে।

উপনির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, সংশ্লিষ্ট একটি আসনের উপনির্বাচনও ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে যাতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনগতভাবে যেসব নির্বাচন আগে করার প্রয়োজন, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগের ধাপের নির্বাচনগুলোর মধ্যে ২০২১ সালের ১০ জুন প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদও অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে।

সিইসি বলেন, যেসব এলাকায় নির্বাচন আগে দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা আছে, সেগুলো আমাদের প্রথমে বিবেচনায় নিতে হবে। আর হিল রিজিয়ন বা দুর্গম অঞ্চল যেখানে আছে, সেখানে যদি নির্বাচন পড়ে, সেগুলো শুকনো মৌসুমে করার চেষ্টা থাকবে। তিনি আরও বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছি, তার চেয়ে ভালো, খারাপ নয়, ওই স্ট্যান্ডার্ডে আমরা কাজ করতে চাই। প্রফেশনালি, ইন্ডিপেন্ডেন্টলি এবং নিউট্রালি যাতে কাজ করতে পারি এবং আমাদের প্রত্যেকটা পদক্ষেপ যাতে ক্রেডিবল হয়, সেভাবেই কাজ করতে চাই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ আগামী নির্বাচনগুলোতে কমিশনের প্রস্তুতিতে কোনও ঘাটতি নেই এবং নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা সমুন্নত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসন্ন সকল নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে এর প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ও জনআস্থা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধিদলে অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মোঃ সানাউল্লাহ।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক, শক্তিশালী ও সুসংহত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন এবং নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

তিনি কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি, এনআইডি সংশোধন, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশীদের এনআইডি সেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করায় নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রপতি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে আসন্ন স্থানীয় সরকারসহ অন্যান্য সকল নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান এবং এ ব্যাপারে তার সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত