ঢাকা শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

চারঘাটে নেপিয়ার ঘাস চাষে স্বাবলম্বী কৃষক

চারঘাটে নেপিয়ার ঘাস চাষে স্বাবলম্বী কৃষক

কম খরচে অধিক লাভের আশায় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নেপিয়ার ঘাস চাষ। গবাদিপশুর পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত এই ঘাস চাষ করে অনেক কৃষক এখন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। পাশাপাশি স্থানীয় খামারিদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত ঘাস বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন তারা। সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ধান ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি অনেক কৃষক এখন জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করছেন। একবার রোপণের পর কয়েক বছর ধরে বারবার ঘাস সংগ্রহ করা যায় বলে এর প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে নিয়মিত আয় নিশ্চিত হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলার ভাটপাড়া এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি ১ বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাসের চাষ করছেন। তার বাড়িতে নিজের গরু থাকায় এখন আর তাকে বাজার থেকে ঘাস কিনতে হয় না, বরং বাড়ির গরুর খাদ্যের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত ঘাস তিনি বাজারে বিক্রি করেন। লাভের অংক জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রতি বিঘা জমিতে সারা বছরের খরচ বাদ দিয়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাভ হয়। উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের খোর্দ্দগোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আকবর আলী বলেন, নেপিয়ার ঘাস লাগানোর ৩ মাস পর কাটার উপযোগী হয়। প্রতি তিন সপ্তাহ পর পর ঘাস কাটা যায়। প্রথম বছর ফলন কিছুটা কম হয় কিন্তু পরবর্তী ২-৩ বছরে ফলন বেড়ে যায়। বছরে সাধারণত ৫-৭ বার ঘাস কাটা যায়। গড়ে প্রতি বিঘায় বছরে ১০ টন কাঁচা ঘাস পাওয়া সম্ভব। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, নেপিয়ার ঘাস বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। এ ঘাস একবার চাষ করার পর কয়েক বছর ধরে ফলন পাওয়া যায়। এ ঘাস সব ধরনের মাটিতেই জন্মে। তবে বেলে দোআঁশ মাটিতে এর ফলন সবচেয়ে বেশি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ আল মামুন হাসান বলেন, বর্তমানে প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ হচ্ছে। এ ঘাস ৪ ফুট থেকে সাড়ে ৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। নেপিয়ার ঘাস চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক একটি উদ্যোগ। কম খরচে বেশি উৎপাদন হওয়ায় কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নেও এই ঘাস গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত