
শরীরচর্চা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত, উপযুক্ত মাত্রার ব্যায়াম উপকার করতে পারে। যোগাসন শরীরের নমনীয়তা, ভারসাম্য ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট যোগাসন কিডনির পাথর গলিয়ে দেয় বা কিডনি রোগ প্রতিরোধ করে এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
বিশেষ করে নটরাজাসন বা ‘ড্যান্সার পোজ’ একটি ভারসাম্যনির্ভর যোগাসন। এতে শরীরের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় হয় এবং নমনীয়তা ও ভারসাম্য অনুশীলন করা যায়। তবে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে যোগাসনের চেয়ে পর্যাপ্ত পানি পান ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব বেশি। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ প্রস্রাবকে পাতলা রাখতে সাহায্য করে, ফলে পাথর তৈরির উপাদানগুলোর জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমে। প্রথমে সমতল জায়গায় সোজা হয়ে দাঁড়ান। পা দুটো পাশাপাশি রাখুন এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখুন। দুই হাত শরীরের পাশে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকবে।
এবার শরীরের ভার বাঁ পায়ের ওপর রেখে ডান হাঁটু ধীরে ধীরে পেছনের দিকে ভাঁজ করুন। ডান হাত দিয়ে ডান পায়ের পাতা বা গোড়ালি ধরার চেষ্টা করুন। একই সময়ে বাঁ হাতটি সামনের দিকে বা ওপরের দিকে তুলতে পারেন। এরপর ধীরে ধীরে শরীর সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকিয়ে ডান পা পেছনের দিকে ওপরে তুলুন। যতটা আরামদায়ক, ততটাই করুন। জোর করে শরীর বাঁকানোর চেষ্টা করবেন না।
কয়েক সেকেন্ড এই অবস্থানে থেকে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। তারপর পা বদলে একইভাবে অনুশীলন করতে পারেন। ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হলে দেয়াল বা অন্য কোনো স্থির জিনিসের সহায়তা নেওয়া ভালো। নটরাজাসনের মূল উপকার কিডনির পাথর কমানো নয়। এটি মূলত ভারসাম্য, নমনীয়তা ও শরীরের পেশির নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর একটি যোগাসন। নিয়মিত ও সঠিকভাবে যোগাভ্যাস করলে শরীরের নমনীয়তা ও ভারসাম্য উন্নত হতে পারে এবং মানসিক চাপও কিছুটা কমতে পারে।
কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পানি পান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। তবে সবার পানির চাহিদা এক নয়। বয়স, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম এবং কিডনির অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না এসব বিষয়ের ওপর তরলের প্রয়োজন নির্ভর করে। কিডনি ফেইলিউর বা অন্য কোনও কারণে যদি চিকিৎসক তরল সীমিত করতে বলে থাকেন, তাহলে নিজের ইচ্ছায় বেশি পানি পান করা ঠিক নয়।