ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অক্টোবরেই শুরু হচ্ছে কাজ

২০২৮ শিক্ষাক্রমে আসছে পরিবর্তন

২০২৮ শিক্ষাক্রমে আসছে পরিবর্তন

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রয়োজনভিত্তিক সীমিত পরিমার্জনের পর এবার ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রমে বিস্তৃত ও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে চলতি বছরের অক্টোবর মাসেই বর্তমান শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন ও পর্যালোচনার কাজ শুরু করতে যাচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিভিউ কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নির্ধারণের প্রাথমিক কাজ শুরু হচ্ছে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের প্রায় দুই বছর আগেই। এনসিটিবি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে বর্তমান শিক্ষাক্রমের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত বিষয়বস্তু ও শিখনফল কতটা অর্জন করতে পারছে, শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে কোথায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে এবং বর্তমান শিক্ষাক্রমের কোন কোন অংশে পরিবর্তন, সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজন প্রয়োজনসহ সব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। আর, এ মূল্যায়নের ফল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রমে পরিবর্তনের ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হবে।

তবে, ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রমে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু পাঠ্যবইয়ের অধ্যায় পরিবর্তন, নতুন বিষয় যুক্ত করা কিংবা ভাষাগত সংশোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বর্তমান শিক্ষাক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিষয়বস্তু, শিখনফল, শিক্ষণ-পদ্ধতি ও মূল্যায়ন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

জানা গেছে, এ প্রক্রিয়ায় মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে। বর্তমান শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষকরা কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, নির্ধারিত বিষয়বস্তু শ্রেণিকক্ষে কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের শেখানোর ক্ষেত্রে কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং নির্ধারিত শিখনফল বাস্তবে কতটা অর্জিত হচ্ছে— এসব বিষয়েও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা নেওয়া হবে। এছাড়া শুধু শিক্ষক নয়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বর্তমান শিক্ষাক্রম নিয়ে মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা কী পড়ছে, পড়াশোনার বিষয়বস্তু ও শেখার পদ্ধতি নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা কেমন, বর্তমান মূল্যায়ন পদ্ধতিতে তারা কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে এবং শ্রেণিকক্ষের শিখন তাদের জন্য কতটা কার্যকর এসব বিষয়ও পর্যালোচনায় আসবে। পাশাপাশি শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, গবেষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনের মতামত নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান মূল্যায়ন ব্যবস্থাও ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রম পর্যালোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। শিক্ষার্থীরা যা শিখছে, প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে তা কতটা যথাযথভাবে যাচাই করা যাচ্ছে এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অংশীজনদের মতামত ও বর্তমান শিক্ষাক্রমের মূল্যায়নের ফল পাওয়ার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মওলা বলেন, ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রম নিয়ে কাজ শুরুর আগে বর্তমান শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন করা হবে। এ জন্য কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিভিউ কমিটির বৈঠক হবে। অক্টোবর থেকে মূল্যায়নের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, 'আসলে শিক্ষাক্রমের পরিবর্তন হুট করেই সম্ভব নয়। আমরা এটাকে বিস্তৃত পরিসরে পরিমার্জন বলছি। এর জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বর্তমান শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা জানা হবে। এসব মতামত ও মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতে শিক্ষাক্রমে কোথায় পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা হবে।'

এনসিটিবি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ২০২৮ সালের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু পাঠ্যবই পরিবর্তন করাই মূল বিষয় নয়। শিক্ষাক্রমের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমান শিক্ষাক্রমের কোন বিষয়গুলো কার্যকর এবং কোথায় সংশোধনের প্রয়োজন, মূল্যায়নের মাধ্যমে সেসব বিষয় চিহ্নিত করা হবে।২০২৮ সালের শিক্ষাক্রম নিয়ে এই বিস্তৃত পর্যালোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ের প্রয়োজনভিত্তিক পরিবর্তনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে একাধিক পরিবর্তন এনেছে এনসিটিবি। নতুন বই যুক্ত করার পাশাপাশি কয়েকটি বিষয়ের পাঠ্যবিষয়বস্তু পরিমার্জন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় সব শ্রেণির পরিমার্জিত বই মুদ্রণাধীন। পাশাপাশি চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন যুক্ত হওয়া চারটি বইয়ের চূড়ান্তকরণের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোট চারটি নতুন বই যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে 'বাংলাদেশের সংস্কৃতি' ও খেলাধুলাবিষয়ক দুটি বই যুক্ত করা হবে। খেলাধুলাবিষয়ক বইয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স ও কারাতেসহ বিভিন্ন খেলার প্রাথমিক ধারণা ও কলাকৌশল রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত