ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নিত্যপণ্যের দামে চাপে সীমিত আয়ের মানুষ

নিত্যপণ্যের দামে চাপে সীমিত আয়ের মানুষ

সপ্তাহে শুক্রবার দিনটি এলেই রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বাড়তে থাকে সবজির দাম। ছুটির দিনে ক্রেতার চাপ বাড়ায় চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে সবজির দামও। মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও আগারগাঁও এলাকার বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে কয়েকটি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়। কেউ সপ্তাহের বাজার করছেন, আবার কেউ পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী মাছ, মাংস ও সবজি কিনছেন। বিক্রেতারা বলছেন, অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবার ক্রেতা বেশি থাকায় বাজারে সবজির চাহিদাও বাড়ে। এর সঙ্গে পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। বাজারে আলু প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, ঝিঙা ১২০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সিমের দাম কেজিতে ২২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ঢেঁড়স ৮০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপির আকারভেদে দাম চাওয়া হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, শুধু শুক্রবারের চাহিদা নয়, সবজির দাম নির্ধারণে পাইকারি বাজারের দর, সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় ও মৌসুমের প্রভাব রয়েছে। শীতের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে কয়েকটি সবজির দাম কমতে পারে। তবে শুক্রবারে বাড়তি চাহিদার কারণে বাজারে দামের চাপ কিছুটা বেশি থাকার আশঙ্কা করছেন তারা।

কাজীপাড়া বাজারে হাসান নামের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, শুক্রবার ক্রেতা বেশি হওয়ায় পাইকারি বাজারেও চাহিদা বাড়ে। অনেক সময় সেখান থেকে বেশি দামে সবজি কিনতে হয়। ফলে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বাড়াতে হয়।

মিরপুরের আরেক বিক্রেতা মাজহার বলেন, শুক্রবারে পরিবারের অনেকেই ছুটিতে থাকেন। এদিন একসঙ্গে কয়েক দিনের বাজার করার প্রবণতা বেশি। ফলে বেগুন, সিম, কাঁচা মরিচ ও অন্যান্য সবজির চাহিদা বেড়ে যায়। সরবরাহ কম থাকলে তখন দাম বাড়ে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, শুক্রবারকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ার বিষয়টি এখন নিয়মিত হয়ে গেছে। শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, সপ্তাহের অন্য দিন যে সবজির দাম কিছুটা কম থাকে, শুক্রবার সেটির দাম বেশি চাওয়া হয়। ফলে ছুটির দিনে বাজার করতে এসে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

শেওড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ক্রেতা সেলিনা আক্তার বলেন, আগে পরিবারের জন্য একসঙ্গে বেশি পরিমাণ সবজি কিনতেন। এখন দাম বেশি থাকায় প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনতে হচ্ছে। একেকটি পণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি হলে পুরো বাজারের খরচে তার প্রভাব পড়ে।

মিরপুর ৬ এলাকার আরেক ক্রেতা মাইনুল হাসান বলেন, শুক্রবার বাজারে মানুষের ভিড় বেশি থাকে। এই সুযোগে কোনো কোনো বিক্রেতা বেশি দাম চান। একই বাজারে পাশাপাশি দোকানে একই সবজির দামেও পার্থক্য দেখা যায়। তাই বাজারে আসার আগে দাম সম্পর্কে ধারণা না থাকলে ক্রেতাদের বেশি টাকা দিতে হয়।

পরিবহন খরচ ও সরবরাহ সংকটে বাড়ছে মুরগির দাম : পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীর বাজারে বাড়ছে মুরগির দাম। কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি মুরগির দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এতে বাড়তি দামে মুরগি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের ওপরও চাপ বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও আগারগাঁও এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে মুরগির দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এসব বাজারে সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৩০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ও দোকানভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, মুরগি পরিবহনের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খরচ আগের তুলনায় বেশি পড়ছে। পাশাপাশি বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে দাম আরও বাড়ে। ফলে খামার থেকে পাইকারি বাজার হয়ে খুচরা পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ব্যয় যুক্ত হচ্ছে। তারা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং পাইকারি বাজারে দাম কমলে খুচরা বাজারেও মুরগির দাম কমতে পারে। তবে সরবরাহ পরিস্থিতি ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর আগামী দিনের দাম অনেকটাই নির্ভর করছে।

শেওড়াপাড়া বাজারের মুরগি বিক্রেতা শাহ আলম বলেন, কয়েক দিন ধরে পাইকারি বাজারে মুরগির দাম বাড়ছে। এর সঙ্গে পরিবহন খরচও বেড়েছে। ফলে আগের দামে মুরগি বিক্রি করলে তাদের লাভ থাকছে না। পাইকারি বাজারে দাম আরও বাড়লে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়বে।

কাজীপাড়া বাজারের বিক্রেতা মাহিদুর রহমান বলেন, মুরগি সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা কম। খামার থেকে পর্যাপ্ত মুরগি না আসায় পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ছে। প্রতিদিন নতুন দরে মুরগি কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে মুরগির দাম বাড়লে তা দ্রুত কার্যকর হয়। কিন্তু পাইকারি পর্যায়ে দাম কমলেও খুচরা বাজারে সেই প্রভাব আসতে সময় লাগে। এ কারণে মুরগির বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও মূল্যতালিকা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। বাজার করতে এসে মিরপুরের বাসিন্দা হাসান আলী বলেন, কয়েক দিন আগেও মুরগি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেছে। এখন বাজারে এসে প্রতি কেজিতে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। পরিবারের খাবারের তালিকায় মুরগি নিয়মিত থাকলেও দাম বাড়ায় পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে। আগারগাঁওয়ের ক্রেতা নাসরিন আক্তার মলি বলেন, মাছ ও গরুর মাংসের তুলনায় মুরগি অনেক পরিবারের কাছে তুলনামূলক সহজলভ্য ছিল। এখন মুরগির দামও বাড়তে থাকায় সংসারের বাজার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সবজি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম থাকায় মাসিক ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

এক ডিমেই ১৫ টাকা, বাড়তি চাপে নিম্ন-মধ্যবিত্তরা : রাজধানীর বাজারে একেকটি ডিম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা দরে। অর্থাৎ, এক ডজন ডিম কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা। নিত্যপণ্যের অন্যান্য অনেক পণ্যের দামের সঙ্গে নতুন করে ডিমের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের খাবারের খরচে চাপ তৈরি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, আগারগাঁও ও মোহাম্মদপুরের কয়েকটি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে ডিমের বাড়তি দামের বিষয়টি জানা গেছে। বাজারভেদে ডিমের দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ দোকানে প্রতি পিস ডিম ১৪ থেকে ১৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত