ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন ১৮ রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ

সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন ১৮ রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ

সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন পর্যটনকেন্দ্রিক স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। খুলনার দাকোপে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই— এমন ১৮টি রিসোর্ট ও ইকো কটেজের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত রোববার পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট মালিকদের এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা দেন। নির্দেশনা অমান্য করলে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং নিয়মিত মামলা করার মতো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদফতরের তালিকায় থাকা রিসোর্টগুলো হলো, অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়াবন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোলকানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস ও বনলতা ইকো কটেজ। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকায় এসব রিসোর্টের অবস্থান। অনুমোদন ছাড়াই রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে এর আগে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। জবাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে অনুমোদনের আবেদন করা হলেও চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি তারা। ফলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের আবেদন বাতিল করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, অনুমোদন ছাড়া রিসোর্ট নির্মাণ করায় আগে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছিল। তারা জবাব দেওয়ার পাশাপাশি অনুমোদনের আবেদন করে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে না পারায় আবেদনগুলো বাতিল করা হয়েছে। এরপর সব প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি জানান, নতুন করে নির্মাণ করা আটটি রিসোর্টকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাত দিনের মধ্যে অনুমোদনযোগ্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবার তাদের কার্যক্রম বন্ধ এবং ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সুন্দরবনের চারপাশে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় একের পর এক অনুমোদনহীন রিসোর্ট নির্মাণ ও পর্যটন কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত