
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকার ৪০ ফুট খাল তার পুরোনো রূপ ফিরে পেতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া খালটির স্বাভাবিক রূপ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আজ থেকে সেখানে পাঁচ দিনব্যাপী এক পুনরুদ্ধার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগ কেবল একটি জলপথ পুনরুদ্ধারের গল্প নয়; এটি মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক, শহুরে দূষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলার আশার গল্প।
একসময় এ খালটি স্থানীয় প্রাকৃতিক পরিবেশের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এতে বৃষ্টির পানিপ্রবাহ বজায় রাখা এবং চারপাশের জলাবদ্ধতা দূর করতে সাহায্য করত এবং জলজ প্রাণীদের জন্য একটি স্বাভাবিক আবাসস্থল গড়ে উঠেছিল। আশপাশের বাসিন্দাদের কাছে এক সময় এ ধরনের খাল কেবল কোনো পানির আধার বা নালা নয়, বরং নগরীর বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের এক অপরিহার্য অংশ। তবে দ্রুত নগরায়নের ফলে বসিলার রূপ ধীরে ধীরে বদলে যায়। আবাসিক ভবন, রাস্তাঘাট এবং অন্যান্য অবকাঠামোর প্রসারের সাথে সাথে খালটি ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়ে। বর্জ্য অপসারণ, দখল, পলি জমা এবং জলপথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ার কারণে এর প্রাকৃতিক কার্যকারিতা হুমকির মুখে পড়ে। ১.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের যে খালটি একসময় একটি মূল্যবান ড্রেনেজ ক্যানেল হিসেবে কাজ করত, তা পরবর্তীতে জলাবদ্ধতা, দূষণ এবং পরিবেশগত অবনতির উৎসে পরিণত হতে শুরু করে। বসিলার স্থানীয় বাসিন্দা মনির উদ্দিন বলেন, অতীতে এ খালে নৌকা চলাচল করত, কিন্তু এখন এটি হারিয়ে যেতে বসেছিল। তিনি বলেন, যেহেতু আজ খাল পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে, আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা আশা করি এ খালটি তার পুরোনো রূপ ফিরে পাবে।
মোহাম্মদ হাফিজ নামে আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, খালে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকলে স্থানীয় মানুষই এর সুফল পাবে। বর্তমানে এ খালটি মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। খালটি পুনরুদ্ধার করা হলে মশার কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগ কমে আসবে। খালটি পুনরুদ্ধারে পরিবেশবাদী, সেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একসাথে এগিয়ে আসে। এতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও সিটি ব্যাংক পিএলসি'র সহযোগিতায় মোহাম্মদপুরের বসিলার ৪০ ফিট খাল পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের জন্য 'ফুটস্টেপস বাংলাদেশ' ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর পাঁচ দিনব্যাপী উদ্যোগ গ্রহণ করে। ফুটস্টেপস বাংলাদেশের লোকাল ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড আউটরিচ লিড সৈয়দ রিদওয়ান মুহাম্মদ ঋত্বিক জানান, জমা হওয়া বর্জ্য অপসারণ করা, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং আশপাশের পরিবেশের উন্নয়ন করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, এ উদ্যোগে ৪০০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের একটি শহুরে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়তা করবে।