ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

শিক্ষার্থীর আত্মহত্যায় প্ররোচণাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি

শিক্ষার্থীর আত্মহত্যায় প্ররোচণাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ বৈরাগীর আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার সহপাঠীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শিক্ষকেরাও অংশ নেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর ফটকের সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এতে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে শারীরিক ও সামাজিকভাবে হেনস্তা করে আত্মহত্যায় বাধ্য করার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব বলেন, ‘শুভ বৈরাগীকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে। তার মৃত্যুর পর আমরা গোপালগঞ্জে গিয়েছিলাম। তার লাশ আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। শুভর ফেসবুক পোস্টে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, প্রেমের সম্পর্কের জেরে তাকে মারধর করা হয়েছিল এবং ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ দেওয়া হয়েছিল, যা তাকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দেয়। আমরা দ্রুত দোষীদের শাস্তি দেখতে চাই।’

শুভর সহপাঠী শিল্পী বিশ্বাস বলেন, ‘যারা শুভকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতেই আমরা আজ এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের দাবি একটাই শুভর মতো আর কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীকে যেন এভাবে অকালে হারাতে না হয়। সে জন্য এই ঘটনায় দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম। তিনি বলেন, ‘শুভ আমাদের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাকে যারা আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছেন, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। আমরা আশা করি, আমাদের এই দাবির প্রতি প্রশাসন সহানুভূতিশীল হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক শারমিন আক্তার, সঞ্জয় কুমার সরকার, মোহসিনা হোসাইন প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে এ ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। এতে লিখিত বক্তব্যে তিনটি দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থী শামীম সিকদার। দাবিগুলো হলো দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা, ঘটনার তদন্ত ও বিচারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা এবং আগামী এক মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন স্থায়ী মনোরোগ-বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত