
সারাদেশের মতো রাজধানীর রাজপথ এখন নির্বাচনি প্রচারণায় মুখর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ঢাকার আসনগুলোতে গতকাল বুধবার প্রতীক বরাদ্দ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। আর এই প্রতীক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন ভোটের উত্তাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে তিলোত্তমা এই নগরীতে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীরা যেমন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন, তেমনি তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে নতুন প্রত্যাশা। একদিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা, অন্যদিকে প্রধান রাজনৈতিক পক্ষগুলোর পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জ- সব মিলিয়ে রাজধানীর ভোটের রাজনীতি এখন তুঙ্গে।
ঢাকা জেলার ৫ আসনে প্রতীক বরাদ্দ শেষে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি প্রার্থীদের : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের (ঢাকা-১, ২, ৩, ১৯ ও ২০) প্রার্থীরা।
গতকাল বুধবার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ ও গণভোট উপলক্ষে আচরণবিধি সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা এবং প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে এসব দাবি তুলে ধরেন তারা। প্রতীক বরাদ্দ গ্রহণকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা বলেন, গত কয়েকটি নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটাররা নানা কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কোনোভাবেই যেন এবারের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রার্থীরা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
এতে সভাপতিত্ব করেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকার জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
মতবিনিময় সভায় প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগ তুলে ধরেন এবং নির্বাচনকালীন পরিবেশ, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট ভূমিকা কামনা করেন।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম বলেন, আমরা প্রার্থীদের উত্থাপিত সব অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখব। সব প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কেউ যদি নিরাপত্তা ঝুঁকি বা অন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, আমাদের জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি ডিজিটাল প্রচারণার ক্ষেত্রেও সবাইকে সংবেদনশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা হয়রানিমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। যাতে সকলেই নিরাপদে ভোট কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা প্রশাসন নিশ্চিত করবে।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সহযোগিতার জন্য পুলিশ বাহিনী সবসময় প্রস্তুত থাকবে। কোনো এলাকায় যদি পুলিশের সহযোগিতা না পাওয়া যায়, তাহলে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনুষ্ঠান শেষে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন করা হয়। ঢাকা জেলার এই পাঁচটি আসনে মোট ৩২ জন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ঢাকা জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-১ আসনে ছয়জন, ঢাকা-২ আসনে তিনজন, ঢাকা-৩ আসনে ৯ জন, ঢাকা-১৯ আসনে আটজন এবং ঢাকা-২০ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে মনোনয়ন বৈধ হলেও তিন আসনে চার প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এরমধ্যে ঢাকা-১ আসনে খেলাফত মজলিসের ফরহাদ হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. আফজাল হোসাইন ও খেলাফত মজলিসের একেএম এনামুল হক এবং ঢাকা-২০ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুর রউফ মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
ঢাকা-১ আসনে বিএনপির খন্দকার আবু আশফাক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির শেখ মোহাম্মদ আলী, ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী নূরুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র অন্তরা সেলিম হুদা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ঢাকা-২ আসন বিএনপির আমানউল্লাহ আমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর কর্নেল (অব.) আব্দুল হক নির্বাচনে লড়বেন। ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহীনুর ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের মো. সাজ্জাদ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ জাফর, গণসংহতি আন্দোলনের মো. বাচ্চু ভূঁইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সুলতান আহমদ খান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মজিবুর হাওলাদার, গণফোরামের মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী ও জাতীয় পার্টির মো. ফারুক নির্বাচনে লড়াই করবেন।
ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, জাতীয় পার্টির মো. বাহাদুর ইসলাম, এনসিপির দিলশানা পারুল, গণঅধিকারের শেখ শওকত হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইসরাফিল ইসলাম সাভারী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ফারুখ খান, এনডিপির চৌধুরী হাসান সোরোয়ার্দী ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. কামরুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এছাড়া ঢাকা-২০ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. তমিজ উদ্দিন, জাতীয় পার্টির আহসান খান, এনসিপির নাবিলা তাসনিদ, খেলাফত মজলিসের আশরাফ আলী, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. আরজু মিয়া ও এবি পার্টির হেলাল উদ্দিন আহাম্মদ নির্বাচনে লড়বেন।
জামায়াত প্রার্থীরা আচরণবিধি মানছেন না, অভিযোগ বিএনপি প্রার্থী মিল্টনের : ঢাকা-১৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরিফুল ইসলাম খান মিল্টন অভিযোগ বলেছেন, নির্বাচনে অন্য প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা নিয়ম ভেঙে প্রচার চালাচ্ছেন এবং সাধারণ ভোটারদের নাজেহাল করছেন বলে দাবি করেন তিনি। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে প্রতীক বরাদ্দ ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
শরিফুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, আমরা এখানে আজ নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে উপস্থিত হয়েছি। অথচ কিছুক্ষণ আগে দেখলাম জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ৮-১০ জন লোক নিয়ে এখানে এসেছেন। তারা শুরু থেকেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। তিনি বলেন, তাদের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের আইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন। মিরপুর পীরেরবাগ এলাকায় এ বিষয়ে এক গৃহকর্তা প্রশ্ন তুললে জামায়াতের স্থানীয় নেতা ২০-২৫ জন লোক নিয়ে গিয়ে তাকে নাজেহাল করার চেষ্টা করেন। এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ে তারা ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। এসবের ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।
বিএনপি প্রার্থী আরও জানান, ওইদিন সন্ধ্যায় পীরেরবাগে পুনরায় একই ধরনের হট্টগোল সৃষ্টি হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে খবর দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভোটাধিকার নিয়ে মিল্টন বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। আমরা প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনকে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা করতে চাই।
কিন্তু কমিশনকেও কঠোর হতে হবে যেন কোনো বিশেষ দল প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। নির্বাচনের দিন ভোটাররা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়া নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে প্রশাসন- আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকা-৬: নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইসিতে অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর : ঢাকা-৬ আসনে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবদুল মান্নান। প্রতীক বরাদ্দের পর তিনি নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে গত ১৪ জানুয়ারি ইসিতে লিখিত অভিযোগ দেন বলে জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
ইসিতে পাঠানো অভিযোগে আবদুল মান্নান বলেন, বর্তমান নির্বাচন অফিসগুলোর অবস্থান ও ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন উপকরণের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এতে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নির্বাচনি পরিবেশের নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন এই জামায়াত প্রার্থী। তিনি বলেন, নির্বাচনি এলাকায় পেশিশক্তি ও অস্ত্র প্রদর্শনের মতো ঘটনাগুলোর কার্যকর সমাধান এখনও হয়নি। পাশাপাশি নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। এসব বিষয় লিখিতভাবেই রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আবদুল মান্নানের অভিযোগ, ঢাকা-৬ আসনের সব থানা পর্যায়ের নির্বাচন অফিস বর্তমানে একটি ভাড়া ভবনে পরিচালিত হচ্ছে এবং এর মালিকানা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির বলে দাবি করেন তিনি। একই ভবনে ব্যালট পেপার, অমোচনীয় কালি ও অন্যান্য সংরক্ষিত ও গোপনীয় নির্বাচন উপকরণ রাখাকে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে গত ১৪ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। তবে এখন পর্যন্ত সেই আবেদন কমিশনে পাঠানো হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। এমনকি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়েও অভিযোগের গ্রহণপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন জামায়াতের এই প্রার্থী। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নারী কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ : রাজধানীর পীরেরবাগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের হেনেস্তা ও হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে পীরেরবাগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসেন। গত মঙ্গলবার জামায়াতের নারী কর্মীদের এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে জামায়াত নেতা মোবারক হোসেন বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না। কিন্তু তারা যদি আমাদের সাথে বিশৃঙ্খলা করতে আসে আমরা ছাড় দেবো না। জামায়াত-শিবিরকে দুর্বল ভাবার কোনো সুযোগ নেই। এদেশের মানুষ আগামীতে জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। সুতরাং জামায়াত সব প্রস্তুতি নিয়েই আগামী ইলেকশন ও সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করবে ইনশাআল্লাহ।’
হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই পীরেরবাগ জামায়াত ও শিবিরের ঘাঁটি সুতরাং এখানে কোনো সন্ত্রাসীকে ছাড় করা হবে না।’
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ক্ষমা চাইলেন ববি হাজ্জাজ : অপ্রাসঙ্গিক কথা বলার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বিএনপির ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। গতকাল বুধবার নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে ঢাকার আঞ্চলিক রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলীর কাছে তিনি এ ক্ষমা চান। অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতে ববি হাজ্জাজ সবাইকে সালাম জানান। সবকিছু পরিষ্কারভাবে জানানো ও আলোচনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এ সময় ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনের অন্যান্য প্রার্থীদেরও সাধুবাদ জানান।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘১৫ বছর পর আমরা গণতন্ত্র চর্চার একটি সুযোগ পাচ্ছি। আমার আসলে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে যেহেতু আমার নাম নিয়ে কয়েকবার উচ্চারিত হয়েছে, সে জন্য ছোট্ট একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘প্রথমত আমার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা হয়নি। কেউ যদি মোহাম্মদপুর এলাকায় ধানের শীষের একটি পোস্টার আমার সঙ্গে দেখাতে পারেন, তাহলে আমরা আলোচনায় বসব। দ্বিতীয়ত কেউ যদি ভিডিও করে থাকেন, তাহলে সেই ভিডিও দেখাতে বলেন। আমি মোহাম্মদপুরে আসার পর থেকে এলাকাটির জন্য কাজ করছি। খাল পরিষ্কার, রাস্তা পরিষ্কার— কীভাবে মোহাম্মদপুরকে আরও সন্ত্রাসমুক্ত করা যায়, সে কাজই আমি এলাকাবাসীর সঙ্গে করছি। আমি যদি মসজিদে যাই এবং কেউ যদি বলে ভাই, একটু কথা বলেন, তখন আমি বলি- চলুন সকলে একসঙ্গে মিলে এলাকাটাকে সন্ত্রাসমুক্ত করি।’
এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তাকে থামিয়ে বলা হয়, ‘একটু থামাই আপনাকে। এইভাবে কথা বললে কিন্তু পরিবেশটা আমি’...। এরপর ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘স্যরি, আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আমি কোনো প্রচারণা করছি না। আমি শুধু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি।’
পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনাদের এক মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হবে। এখানে দয়া করে কেউ হাউস গরম করবেন না। ঠিক আছে? আপনাদের কারও যদি সুনির্দিষ্ট কিছু থাকে, সেটাই বলেন।’
খালেদা জিয়ার আদর্শে কাজ করতে চান তুলি : সদ্য প্রয়াত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে সমন্নুত রেখে জনগণের জন্য কাজ করার কথা জানিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। গতকাল বুধবার ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে ধানের শীষ প্রতীকে চিঠি পেয়ে এ কথা বলেন তিনি।
সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে কাজ করতে চাই। ধানের শীষের বিশ্বাস ও সমর্থন নিয়ে বিজয়ী হতে চাই, জনগণের সমর্থন চাই। তিনি বলেন, ঢাকা-১৪ আসনে সুন্দর প্রতিযোগিতা চলছে। অপরাজনীতি বন্ধ হোক।
আমরা অপরাজনীতি কালচার চাই না। মানুষ নিরাপদে থাকবে, নিরাপত্তা পাবে; আর কেউ গুম হবে না- এমন বাংলাদেশ চাই আমরা। গণঅভ্যুত্থানের পর পলিসি লেভেলে কী কী করা সেটি স্পষ্ট করেছে বিএনপি। সেই অর্থে অন্যরা তাদের পলিসি স্পষ্ট করেনি। বিএনপি তার পলিসি নিয়ে দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষে বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।