ঢাকা রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ঢাকার মসজিদে ইফতারিতে রোজাদারদের ঢল

ঢাকার মসজিদে ইফতারিতে রোজাদারদের ঢল

পবিত্র রমজানের তৃতীয় দিনে রাজধানীর মসজিদগুলোতে ইফতার আয়োজন ঘিরে দেখা গেছে ভিন্ন এক আবহ। দিনভর সিয়াম সাধনার পর মাগরিবের আজানের সঙ্গে সঙ্গে খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভাঙতে মসজিদে মসজিদে জড়ো হয়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ইফতারের ঠিক আগে থেকেই কাতারে কাতারে মুসল্লিরা মসজিদের ভেতর ও প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসতেই মসজিদের ভেতর দ্রুত সারিবদ্ধভাবে বসে পড়েন রোজাদাররা। কেউ অফিস শেষে সরাসরি এসেছেন, কেউ আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে, আবার কেউ দূর-দূরান্ত থেকে। আজানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই একযোগে খেজুর ও পানি মুখে তোলেন। এরপর সংক্ষিপ্ত ইফতার সেরে মাগরিবের নামাজে দাঁড়িয়ে পড়েন মুসল্লিরা। আয়োজকরা জানান, রমজানজুড়ে প্রতিদিনই এখানে ইফতারের ব্যবস্থা থাকবে। তৃতীয় রোজাতেও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রথম কয়েক দিনেই প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাড়া মিলেছে।

মাহমুদ হাসান নামের এক উদ্যোক্তা বলেন, ‘এই আয়োজন ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুরু হলেও এখন এটি বড় পরিসরে রূপ নিয়েছে। তিনি জানান, সরকারিভাবে কোনো তহবিল নেই। ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় একটি তহবিল গঠন করে প্রতিদিনের ইফতার আয়োজন করা হচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য, সবাইকে একসঙ্গে বসে ইফতার করার সুযোগ করে দেওয়া।’

আল হাসিব নামে আরেকজন জানান, এটি একদিনের আয়োজন নয়। পুরো ৩০ রোজাজুড়েই তারা ইফতারের ব্যবস্থা রাখছেন। আগের বছরগুলোতেও একইভাবে আয়োজন করা হয়েছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের মতো মানুষ ইফতারে অংশ নেন। কোনো কোনো দিন তা তিন থেকে চার হাজারেও পৌঁছে যায়। সামনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন আয়োজকরা।

ইফতারের মেন্যুতেও ছিল বৈচিত্র্য। কামাল উদ্দিন নামের এক স্বেচ্ছাসেবক জানান, প্রতিদিনের তালিকায় থাকে মুড়ি, ঘুগনি, জিলাপি, পিয়াজু, খেজুর, কিশমিশ, পুরি, জুস ও পানি। বড় পরিসরে রান্না ও পরিবেশনের জন্য স্বেচ্ছাসেবকেরা সারাদিন কাজ করেন। ইফতারের কিছুক্ষণ আগে নির্ধারিত স্থানে খাবার প্যাকেট সাজিয়ে রাখা হয়। আজানের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো বিতরণ করা হয়।

মসজিদে ইফতার করতে আসা অনেকেই বলছেন, একসঙ্গে বসে ইফতার করার আনন্দ আলাদা। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে শত শত মানুষের সঙ্গে একই সময়ে রোজা ভাঙার অনুভূতি তাদের কাছে ভিন্ন এক প্রশান্তি এনে দেয়। কেউ কেউ পরিবার থেকে দূরে থাকলেও মসজিদে এসে সেই শূন্যতা কিছুটা পূরণ হয় বলে জানান। রমজানে মসজিদে মুসল্লির উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি তারাবি ও অন্যান্য ইবাদতে অংশ নিতে প্রতিদিনই মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইফতার আয়োজন। ফলে সন্ধ্যার আগে থেকেই মসজিদগুলোতে জমে উঠছে ভিড়। বায়তুল মোকাররম ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মসজিদে স্থানীয় উদ্যোগে ইফতার আয়োজন করা হচ্ছে। কোথাও ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এসেছেন, কোথাও আবার এলাকাবাসী চাঁদা তুলে আয়োজন করছেন। অনেক জায়গায় দেখা গেছে, পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষদের জন্যও ইফতারের প্যাকেট রাখা হয়েছে। ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে মসজিদ প্রাঙ্গণে এক ধরনের নীরব প্রত্যাশা তৈরি হয়। আজানের ধ্বনি ভেসে উঠতেই সেই নীরবতা ভাঙে খেজুরের মিষ্টি স্বাদে। এরপর মাগরিবের নামাজ শেষে কেউ দ্রুত বাসায় ফিরছেন, কেউ আবার কিছু সময় মসজিদে থেকে কোরআন তিলাওয়াত বা দোয়া-মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন।

তৃতীয় রোজার ইফতার শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে আসা মুসল্লিদের মুখে ছিল তৃপ্তির ছাপ। কেউ বলছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকুক। কেউ আবার আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন। রমজানের দিন যত গড়াচ্ছে, ততই জমে উঠছে রাজধানীর মসজিদভিত্তিক ইফতার আয়োজন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, পুরো মাসজুড়ে এই ধারা বজায় থাকবে এবং আরও বেশি মানুষ একসঙ্গে বসে ইফতার করার সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত