ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি সরকারের

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি সরকারের

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, নির্বাচনি ইশতেহারে নারী ও শিশু সুরক্ষার সুপারিশ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার জিরো টলারেন্স বাস্তবায়ন করবে। গতকাল সোমবার ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নির্বাচনি ইশতেহারে নারী ও শিশু সুরক্ষার সুপারিশ : রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে নারী ও শিশু সুরক্ষা একটি অগ্রাধিকারপূর্ণ বিষয়। আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি দেইনি; বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, শিশু অধিকার সংরক্ষণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের সবার দায়বদ্ধতা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে যে সব সুপারিশ রয়েছে; তা শুধু কাগজে-কলমে নয়; মাঠপর্যায়ে সকলে মিলে বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ দেশে ৫১ শতাংশ নারী ও ৩৩ শতাংশ শিশু সমাজেরই অংশ এবং সম্পদ। নারীর ক্ষমতায়ন এবং শিশুদের সুরক্ষা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। মন্ত্রী বলেন, সরকার এরইমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে যাতে নারী প্রধান পরিবারগুলো সরাসরি সুবিধা পায় এবং স্বাবলম্বী হতে পারে। তিনি বলেন, এদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনে যে পরিমাণ আইন রয়েছে; তা অন্য কোনো সভ্য দেশে নেই। তিনি ছেলে-মেয়েদের নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর পরিবারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সমাজে যারা মাদকাসক্ত যুবক তারা সমাজে রোগের মতই একটা ডিজিস। তারা সমাজে নানা অন্যায় কাজের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের থেকে আমাদের ছেলেমেয়েদের দূরে রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা আরও শক্তিশালী আইন প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এনজিও-সরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নারী ও শিশু সুরক্ষাকে আরও সুরক্ষিত করব।’

মন্ত্রী বলেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা তাদের সুপারিশগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করব এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করব। তিনি আরও বলেন, সব রাজনৈতিক দলকে একযোগে কাজ করতে হবে যাতে প্রতিটি নারী ও শিশু নিরাপদ ও সমৃদ্ধ জীবন পায়।

অনুষ্ঠানে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা নারী ও শিশু সুরক্ষাবিষয়ক বিস্তারিত সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে শিশু বিবাহ প্রতিরোধ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বন্ধ, শিশু শ্রম নির্মূল এবং মেয়েদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ডাক্তার তাসনিম জারা, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেট্রোপলিটন এক্সিকিউটিভ কমিটির মেম্বার ডা. ফেরদৌস আরা খানম বক্তৃতা করেন। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস নির্বাচনি ইশতেহারে নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষার সুপারিশ, রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যত করণীয় নানা বিষয় তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতারা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত