
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নাগরিক সেবা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে গতকাল গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিএসসিসির অঞ্চল-১ এর আওতাধীন বিষয়াবলি নিয়ে ধানমন্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
গণশুনানিতে অঞ্চল-১ এর অন্তর্ভুক্ত ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও শাহবাগসহ সংলগ্ন এলাকার নাগরিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময় নাগরিকরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স, জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিয়ে তাদের মতামত, অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে সরকার জনগণের অংশীদারিত্বভিত্তিক একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ডিএসসিসির এই গণশুনানি। নগর ব্যবস্থাপনায় সরকার, সিটি কর্পোরেশন এবং জনগণ- সবারই নিজ নিজ দায়িত্ব রয়েছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই গণশুনানি জনগণের প্রত্যাশা এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সেবার মান বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, ধানমন্ডি লেককে কোনোভাবেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে ধানমন্ডি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হকার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, জনগণ যে পরিবর্তন ও উন্নয়ন দেখতে চায়, সরকার তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নগর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণসহ সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, নাগরিকদেরও নিয়ম মেনে চলতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, লেকটিকে আরও নান্দনিক, পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং এখানে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে না।