ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ৭১ যাত্রী উধাও

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ৭১ যাত্রী উধাও

মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য ৭৬ জন যাত্রী একত্রিত হন। শুরু হয় টিকিট, ভিসা ও পাসপোর্ট চেকিং। তাদের মধ্যে পাঁচজনের ভিসা ও পাসপোর্ট চেক করতে গিয়ে অসংগতি ধরা পড়ে। তাদের একজনকে পৃথক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বাকিরা একে একে বিমানবন্দর থেকে মুহূর্তে কেটে পড়েন। এরপর ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি বাকি যাত্রীদের নিয়েই রওনা হয় দেশটির উদ্দেশ্যে। গত শনিবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজে এমন কাণ্ড ঘটেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেই ফ্লাইটে ২৪৫ জন যাত্রী যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৭৬ জন যাত্রী না নিয়েই এয়ারলাইন্সটি মালয়েশিয়া চলে গেছে। যে পাঁচজনের ভিসা ও পাসপোর্টে অসংগতি পাওয়া গিয়েছিল, তাদেরকে বিমানবন্দর থেকে অফলোড করা হয়েছে। এ ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তারা ভিসা ও পাসপোর্ট যাচাইয়ের একাধিক ধাপ পেরিয়ে কীভাবে সর্বশেষ ধাপে গিয়ে পৌঁছাল।

এদিকে একটি সূত্র জানায়, ৭৬ জন যাত্রীই এক লাইনে ছিলেন। কিন্তু পাঁচজনের ভিসা জাল ধরা পড়ার পর তাদেরকে আলাদা করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। তাদের মূলত ট্যুরিস্ট ভিসায় দেশটিতে যাওয়ার কথা ছিল এবং এরপর তারা সেখানে স্থায়ীভাবে থেকে যেতেন। পরে তারা হয়তো অন্য কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেন। আর তাদেরকে নিয়ে যাচ্ছিল একটি ট্রাভেল এজেন্সি। এ ঘটনার পর সেই ট্রাভেল এজেন্সিকে খুঁজছেন গোয়েন্দারা। যে পাঁচজনকে অফলোড করা হয়েছিল তারা জানিয়েছে, তারা মালয়েশিয়া হয়ে সৌদিতে ওমরাহ করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তাদেরকে আর পরে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, সাধারণত বিমানবন্দরে জাল ই-ভিসা শনাক্ত করার দায়িত্বে থাকে ইমিগ্রেশন পুলিশ অর্থাৎ এসবির (ঝই) সদস্যরা। তাদের গ্রিন সিগন্যাল ছাড়া কেউ সর্বশেষ ধাপে পৌঁছাতে পারে না।

কিন্তু তাদের পাঁচজনের ভিসা জাল প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে বোর্ডিং পাস এরিয়া পর্যন্ত তারা গেল! এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত