ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

তিস্তার তীর সংরক্ষণ কাজে ১৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন

তিস্তার তীর সংরক্ষণ কাজে ১৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন

তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও লালমনিরহাট সদরের সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন নির্মিত তীর সংরক্ষণ কাজের প্রায় ১৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে কয়েকটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে। নতুন করে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে তীরবর্তী পরিবারগুলোর দিন কাটছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে তিস্তার ভাঙনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের নরশিং ও তালপট্টি এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হাজীপাড়া, পশ্চিম হাজীপাড়া, পূর্ব হাজীপাড়া, হরিণচড়া এলাকার হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবিকার শেষ সম্বল হারিয়েছেন। দীর্ঘদিনের দাবির পর চলতি বছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ওই এলাকায় তীর সংরক্ষণের কাজ বাস্তবায়ন করেন। নতুন বাঁধ নির্মাণে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও তা স্থায়ী হয়নি।

গত সোমবার রাতে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। তীব্র স্রোতে নতুন নির্মিত তীর সংরক্ষণ কাজের প্রায় ১৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়। একই সঙ্গে নদীর পানিতে কয়েকটি বসতবাড়ি ভেঙে যায়, হাজারের বেশি বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে যায়।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, লালমনিরহাটের আদর্শপাড়া থেকে গঙ্গাচড়ার তালপট্টি হয়ে নরশিং পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তীর সংরক্ষণকাজ করা হয়েছিল। গত কয়েক দিন ধরে তীব্র স্রোতের কারণে বাঁধটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। সোমবার রাতের পানি বৃদ্ধির পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন স্থানে ধস দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি দ্রুত ওঠানামা করছে। আকস্মিক বন্যা, তীব্র স্রোত এবং হঠাৎ পানি কমে যাওয়ার কারণে নদীর তীরজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে প্রায় ২ হাজার পরিবারের বসতভিটা, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। তালপট্টি গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অনেক আশা নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। ভেবেছিলাম এবার আর ভাঙন হবে না। কিন্তু কয়েক মাসও টিকল না। চোখের সামনে নতুন বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নরশিং এলাকার কৃষক নুর মোহাম্মদ বলেন, আগে বাঁধ ছিল না তখনও ভয় ছিল, এখন বাঁধ থেকেও ভয় হচ্ছে। কারণ সরকারের এত টাকার বাঁধ তো কোনো উপকারে আসছে না। স্বল্প মেয়াদী বন্যাতে যদি এত দ্রুত বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে এই বাঁধ দিয়ে আমাদের কী লাভ হলো? এখন আমাদের বাড়িঘর ও জমিজমা হারানোর ভয় বাড়ছে। শুধু জিও ব্যাগ ফেললেই সমস্যার সমাধান হবে না।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত