
উত্তরাঞ্চলের নারীদের কারিগরি শিক্ষায় নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে ‘রংপুর সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’। নবনির্মিত রংপুরের প্রথম এই মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দৃষ্টিনন্দন আধুনিক অবকাঠামো, অত্যাধুনিক ওয়ার্কশপ, আবাসিক সুবিধা এবং দক্ষ শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাওয়া এ প্রতিষ্ঠানে প্রথম ধাপে গ্রাফিক ডিজাইন ও আর্কিটেকচার টেকনোলজিতে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া এ মাসে শুরু হবে।
এটি চার বছর মেয়াদি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ‘রংপুর সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ এর প্রথম শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, উত্তরাঞ্চলের নারীদের কারিগরি শিক্ষায় আরও দক্ষ করতে রংপুর সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ প্রতিষ্ঠানটি নারীদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার সাথে দেশ-বিদেশে কর্মক্ষেত্র সৃষ্টিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
স্থানীয় শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরীর শালবন মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় প্রায় ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। তিন একর জমির ওপর এ আধুনিক ক্যাম্পাসটি গড়ে তোলা হয়েছে। আগে এ জায়গা রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধীনে ছিল। সরকারি অর্থায়নে ‘চারটি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনা শীর্ষক’ প্রকল্পের আওতায় রংপুর ছাড়াও সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা হচ্ছে।
নতুন এ ক্যাম্পাসে ছয় তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন এবং চার তলাবিশিষ্ট ছাত্রীনিবাস তৈরি করা হয়েছে। ২০০ আসনের ছাত্রীনিবাসে পাঁচটি পৃথক ব্লক রয়েছে। হলে শিক্ষার্থীদের জন্য রিডিং রুম, টিভি রুম ও ডাইনিং রুমের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের ডরমেটরি, অভ্যন্তরীণ সড়ক, ড্রেনেজ ও সাব-স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। একটি অত্যাধুনিক ওয়ার্কশপ ভবনও নির্মাণ করা হবে। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত ওয়ার্কশপ ভবনটি শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করবে।
ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজের প্রায় ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এখানকার শিক্ষার্থীরা মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে ওয়ার্কশপ ভবনটি আন্তর্জাতিকমানের যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। রংপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রথিশ চন্দ্র সেন জানান, রংপুরের প্রতিষ্ঠানের সব কাজ আগামী অক্টোবরের মধ্যে পুরোপুরি শেষ হবে।
এদিকে, রংপুর সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। ইতোমধ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ২০ জন শিক্ষক যোগদান করেছেন। এ মাসের মধ্যে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে রংপুর সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে গ্রাফিক ডিজাইন ও আর্কিটেকচার টেকনোলজিতে ৫০ জন করে মোট ১০০ ছাত্রী ভর্তি করা হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষে আরো দুটি নতুন ট্রেড যুক্ত করে ১০০ শিক্ষার্থী বাড়ানো হবে।
ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থীকে প্রতি সেমিস্টারে বৃত্তি দেয়া হবে। রংপুর সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান জানান, ২০২২-২৬ সাল পর্যন্ত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্রীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ও অক্টোবরে ক্লাস শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে বের হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না। দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। সচেতন মহল মনে করছেন, রংপুর সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চালু হওয়ার মধ্যদিয়ে উত্তরাঞ্চলের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষ নারী জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের শিল্প ও প্রযুক্তি খাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে নতুন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, দেশে ও বিদেশে বর্তমান এবং ভবিষ্যত চাকরির বাজারের চাহিদার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে এই মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটটি নতুনমাত্রা যোগ করবে বলে আমরা মনে করছি। সরকার কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও নারীদের অগ্রাধিকার সম্প্রসারণে যেভাবে কাজ করছে, তারই প্রতিচ্ছবি এটি। রংপুর বিভাগের মানুষের জন্য এটা অনেক বড় পাওয়া, কারণ এই অঞ্চলে এটি প্রথম সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।