
নাম-পরিচয় গোপন রেখেই রংপুরে প্রতিদিন শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করে যাচ্ছেন এক মানবিক মানুষ। কে তিনি, কোথা থেকে আসেন কিংবা কেন এমন উদ্যোগ নিয়েছেন, তা জানেন না খাবার গ্রহণকারীদের কেউই। তবে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে একবেলা খাবার তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ তাদের কাছে হয়ে উঠেছে স্বস্তি ও আশার কারণ। রংপুর মেডিক্যল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে বাইরে মাঠে খাবার খাওয়ানো হয় । গত ৩ তিন বছর থেকে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার থেকে আসা গরিব, অনাথ, দুস্থ, ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে একবেলা খাবার তুলে দেওয়ার হয়। খাবার বিতরণ করেই নীরবে চলে যান তারা।
খাবার নিতে আসা অসহায় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেরই নিয়মিত কাজ নেই। কেউ বয়সের কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, আবার কেউ অভাবের কারণে পরিবার নিয়ে কঠিন সময় পার করছেন। কোনো কোনো দিন একবেলা খাবার জোগাড় করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিদিন বিনাশর্তে খাবার পাওয়াকে তারা বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে দেখছেন।
এক অসহায় ব্যক্তি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। সবসময় কাজ থাকে না। কোনো দিন খাবার থাকে, কোনো দিন থাকে না। এখানে এসে খাবার পেলে অনেক উপকার হয়। যিনি খাবার দেন, আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন।
খাবার নিতে আসা এক নারী বলেন, অনেক সময় নিজের সন্তানদের জন্য খাবার জোগাড় করতেও কষ্ট হয়। এখানে খাবার পেলে অন্তত একটা বেলা চিন্তা করতে হয় না।
যিনি আমাদের খাবার দেন, তার জন্য আমরা দোয়া করি। এক বৃদ্ধ বলেন, বয়স হয়ে গেছে। আগের মতো কাজ করতে পারি না। মানুষের কাছে চাইতেও লজ্জা লাগে। এখানে কেউ আমাদের ছোট করে দেখে না। সম্মান দিয়ে খাবারটা দেয়। আমাদের কাছে এটা অনেক বড় ব্যাপার। খাবার গ্রহণকারীদের ভাষ্য, যিনি এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত, তিনি কখনও নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চান না। খাবার বিতরণ করেই নীরবে চলে যান। এমনকি অনেকেই তার নাম পর্যন্ত জানেন না। একজন বলেন, অনেকে সাহায্য করার সময় ছবি তোলে, ভিডিও করে। কিন্তু এখানে যিনি খাবার দেন, তিনি কোনো প্রচার চান না। খাবার দিয়ে চলে যান। আমাদের কাছে এটাই ভালো লাগে। আরেক অসহায় ব্যক্তি বলেন, আমরা জানি না তিনি কে। তার নামও জানি না। শুধু জানি, তিনি আমাদের কথা মনে রাখেন। ক্ষুধার সময় একবেলা খাবার আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।"
অসহায় মানুষরা মনে করেন, সমাজে এমন মানবিক উদ্যোগ আরও বাড়লে উপকৃত হবেন অনেক মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, সামর্থ্যবান মানুষরা নিজেদের অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।
এক খাবার গ্রহণকারী বলেন, আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন, তার রিজিক বাড়িয়ে দেন। তিনি যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমরাও যেন একদিন সামর্থ্যবান হয়ে অন্য মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।
পরিচয় প্রকাশ না করেই প্রতিদিন শতাধিক মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে যাওয়ার এই উদ্যোগ তাই অসহায় মানুষের কাছে শুধু খাবার বিতরণ নয়, মানবিকতারও একটি দৃষ্টাস্ত হয়ে উঠেছে।
রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, এ ধরনের মহৎ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যারা তাদের ভালো হবে বলে তিনি মনে করেন।