
চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর সৃষ্টি। এরই প্রমাণস্বরূপ আল্লাহ এ দুটোর ওপর ‘গ্রহণ’ প্রদান করেন। এটি আল্লাহর শক্তিমত্তার নিদর্শন বৈ কিছুই নয়। চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ তার পূজারিদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে এ সতর্কবাণী পৌঁছে দেয় যে, এ দুটোও অন্যান্য সৃষ্টির মতো আল্লাহর এক সৃষ্টি। এরা উপাসনার যোগ্য নয়। যেহেতু এরা নিজেরাই বিপদগ্রস্ত হয়, যা থেকে নিজেরা আত্মরক্ষা করতে পারে না, সেহেতু এগুলো উপাসনার যোগ্য হতে পারে না। বরং এ দুটোকে আল্লাহকে চেনার নিদর্শন হিসেবে গণ্য করাই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। মহান আল্লাহ বলেছেন, অর্থ ‘আর তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে দিবস, রজনী, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সেজদা করো না, চন্দ্রকেও না; সেজদা করো আল্লাহকে, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা নিষ্ঠার সঙ্গে শুধু তাঁরই ইবাদত কর। [সুরা ফুসসিলাত, ৪১ : ৩৭]
জাহিলি যুগে মানুষ ধারণা করত যে, বিশ্বে কোনো মহাপুরুষের জন্ম, মৃত্যু কিংবা দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ প্রভৃতির বার্তা দিতে সূর্য বা চন্দ্র গ্রহণ হয়ে থাকে। ইসলাম একে ভ্রান্ত ধারণা আখ্যায়িত করেছে এবং ‘গ্রহণ’ কে সূর্য ও চন্দ্রের ওপর একটি বিশেষ ক্রান্তিকাল বা বিপদের সময় বলে গণ্য করেছে। এ জন্য সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় মোমিনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন এ সময়ে অন্যান্য কাজকর্ম বন্ধ রেখে আল্লাহর জিকির, তাসবিহ, দুয়া, সালাত প্রভৃতি আমল করে।
হাদিসের আলোকে চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ : ১. মুগিরা ইবনু শুবা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র ইবরাহিমের মৃত্যুর দিনটিতেই সূর্য গ্রহণ হলো। তখন আমরা সবাই বলাবলি করছিলাম যে, নবীপুত্রের মৃত্যুর কারণেই এমনটা ঘটেছে। আমাদের কথাবার্তা শুনে রাসুল (সা.) বললেন, ‘সুর্য এবং চন্দ্র আল্লাহর অগণিত নিদর্শনের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারওর মৃত্যু কিংবা জন্মগ্রহণের ফলে চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ হয় না।’ [বোখারি : ১০৪৩; মুসলিম : ৯১৫]
২. আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) এর জামানায় একবার সূর্যগ্রহণ হলো। গ্রহণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুত মসজিদের দিকে ধাবিত হলেন এবং সবাইকে মসজিদে আসতে আহ্বান জানালেন। তিনি নামাজে দাঁড়ালেন এবং এত দীর্ঘ করলেন যে, এই জামায়াতে আগে কখনও এমন করেননি। এরপর রুকুতে গেলেন এবং রুকু এত দীর্ঘ করলেন যা আগে কখনও করেননি। এরপর দাঁড়ালেন; কিন্তু সেজদায় গেলেন না এবং দ্বিতীয় রাকায়াতেও কিরাত দীর্ঘ করলেন। এরপর আবার তিনি রুকুতে গেলেন এবং তা আগের চেয়ে আরও দীর্ঘ করলেন। রুকু সমাপ্ত হলে দাঁড়ালেন এবং এরপর সেজদায় গেলেন এবং তা এত দীর্ঘ করলেন যে, আগে কখনও এমনটা করেননি। এরপর সেজদা থেকে দাঁড়িয়ে প্রথম দু’রাকাতের ন্যায় দ্বিতীয়বারও ঠিক একইভাবে নামাজ আদায় করলেন। ততক্ষণে সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে গেছে। নামাজ সমাপ্ত হলে তিনি আল্লাহর প্রশংসা পেশ করে খুতবা প্রদান করলেন। তিনি বললেন, ‘সূর্য এবং চন্দ্র আল্লাহর অগণিত নিদর্শনগুলোর মধ্যে দু’টো নিদর্শন। কারও মৃত্যু কিংবা জন্মগ্রহণের ফলে চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ হয় না। অতএব, যখনই তোমরা চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করবে, তখনই আল্লাহকে ডাকবে, তার বড়ত্ব ও মহত্ব প্রকাশ করবে এবং নামাজে রত হবে। [বোখারি : ১০৪৪; মুসলিম : ৯০১]
৩. আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী রাসুল (সা.)-এর কাছে ছিলাম। এ সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। রাসুল (সা.) তখন উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের চাদর টানতে টানতে মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং আমরাও প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদের নিয়ে সূর্য প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত দু’রাকাত নামাজ আদায় করলেন। এরপর তিনি বললেন, ‘কারও মৃত্যুর কারণে কখনও সূর্যগ্রহণ কিংবা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ দেখবে তখন এ অবস্থা কেটে যাওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করবে এবং দোয়া করতে থাকবে।’ [বোখারি : ৯৮৩] ৪. নুমান ইবনু বাশির (রা.) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদিন অতি দ্রুত মসজিদ অভিমুখে বের হয়ে গেলেন, তখন সূর্যগ্রহণ লেগে গিয়েছিল। তারপর এমনভাবে নামাজ আদায় করলেন যে, সূর্য আলোকিত হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, ‘জাহিলি যুগের লোকরা বলত যে, কোনো মহান ব্যক্তির মৃত্যু ব্যতীত চন্দ্র-সূর্যের গ্রহণ হয় না। অথচ কারও জন্ম মৃত্যুর কারণে চন্দ্র-সূর্যের গ্রহণ হয় না, বরং তারা আল্লাহর সৃষ্ট বস্তুবস্তুর দুটি বস্তু। আল্লাহ তায়ালা তার সৃষ্টিতে যা যা ইচ্ছা নব নব সৃষ্টি করেন। অতএব, সূর্য এবং চন্দ্রের কারও যদি গ্রহণ লেগে যায়, তবে তোমরা নামাজ আদায় করতে থাকবে, তা আলোকিত হওয়া অথবা আল্লাহ তায়ালার নতুন কোনো ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত।’ [নাসায়ি, আসসুনান : ১৪৯৩]
৫. আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে একবার সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন তিনি ওঠে দাঁড়ালেন এ আশংকায় যে, কেয়ামতের মহাপ্রলয় বুঝি সংঘটিত হবে। তিনি দ্রুত মসজিদে এলেন। অত্যন্ত দীর্ঘ কিয়াম, দীর্ঘ রুকু ও দীর্ঘ সেজদার সঙ্গে নামাজ আদায় করলেন। আমি আর কোনো নামাজে কখনও এরূপ দেখিনি। এরপর তিনি বললেন, ‘আল্লাহর প্রেরিত এসব নিদর্শনাবলি কারো মৃত্যুর জন্য হয় না, কারও জন্মের জন্যও হয় না। বরং তিনি এগুলো প্রেরণ করেন তাঁর বান্দাদের সতর্ক করার জন্য। যখন তোমরা এসব নিদর্শনাবলির কিছু দেখতে পাও, তখন তোমরা আতংকিত হৃদয়ে আল্লাহর জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফারের মশগুল হও।’ (মুসলিম : ১৯৮৯)।
ইতিহাসের পাতা থেকে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হলো ঐতিহাসিকদের জন্য একটি মূল্যবান রিসোর্স বা ব্যাপার। যার মধ্যে তারা কিছ্ ুঐতিহাসিক ঘটনাকে গ্রহণ করেন (ওই তারিখের সঙ্গে বিশষভাবে সম্পৃক্ত করে), যেখান থেকে অন্য কোনো দিন অথবা আদিমকালের কোনো ক্যালেন্ডারের ব্যাপারে ধারণা বা অনুমান করা হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৭৬৩ এর ১৫ জুনে একটি সূর্য গ্রহণের কথা উল্লেখিত হয়েছিল একটি অ্যাসেরিয়ান লিপিতে, যা খুব গুরুত্বপূর্ণ আদিম প্রাচ্যের কালপঞ্জির জন্য। সেখানে আগের আরও অন্যান্য সূর্য গ্রহণের তারিখও দাবি করা হয়। ৪০০০ বছর আগে সম্রাট জং কং দু’জন জ্যোর্তিবিদকে শিরোচ্ছেদ করেছিলেন, তারা হলেনÑ হিসি এবং হো- যারা একটি সূর্য গ্রহণের ভবিষ্যৎদ্বাণী করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বলে ধরে নেওয়া হয়। সম্ভবত সবচেয়ে আগের এখনও অপ্রমাণিত ব্রুস মাসির দাবি, যিনি কথিতভাবে একটি গ্রহণকে লিংক করেন, যা হয়েছিল ২৮০৭ খ্রিষ্টপূর্বের ১০ মে’তে, কতিপয় প্রাচীন বন্যার পুরা কথার ভিত্তিতে ভারতীয় মহাসগরে একটি সম্ভাব্য উল্কা-প্রভাবের বিবেচনায়, যেখানে উল্লখ আছে একটি সম্পূর্ণ সূর্য গ্রহণের কথা। গ্রহণকে বিবেচনা করা হয় পূর্বাভাস বা ভবিষ্যদ্বাণীর উপলক্ষ হিসেবে। প্রাচীন গ্রীক ঐতিহাসিক হিরোডোটাস লিখেছিলেন যে, মিলেটাসের থেইলস একটি গ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যা হয়েছিল মেডিয়ান্স ও লেডিয়ানসের মধ্যে চলমান একটি যুদ্ধ চলার মধ্যকালে। এক্লিপস বা গ্রহণের কারণে যুদ্ধের উভয়পক্ষ অস্ত্র নামিয়ে রাখল এবং শান্তির ঘোষণা দিলো। এই এক্লিপস বা গ্রহণটা ঘটাল অবশিষ্ট অনিশ্চয়তা, যদিও এই ব্যাপারটা পঠিত হয়েছে শত শত প্রাচীন ও আধুনিক কর্তৃপক্ষ দ্বারা। একটি সম্ভাব্য প্রার্থনা বা আকাক্সক্ষা সংগঠিত হলো ৫৮৫ খ্রিষ্টপূর্বের ২৮ মে’তে। সম্ভবত হেলিস নদীর কাছে এশিয়া মাইনোরে। হিরোডোটাস গ্রীসদের বিরুদ্ধে জারজেক্স এর একটি অভিযানের আগে একটি এক্লিপস বা গ্রহণ চিহ্নিত করেছেন, যার তারিখক্ষণ করা হয়েছিল ৪৮০ খ্রিষ্টপূর্বে, যা মিলে গিয়েছিল জন রাসেলের দ্বারা চিহ্নিত একটি বলয়াকার সূর্য গ্রহণের সঙ্গে, যা ঘটেছিল ৪৭৮ খ্রিষ্টপূর্বের ১৭ ফেব্রুয়ারিতে। এছাড়াও একটি আংশিক এক্লিপস দেখা গিয়েছিল পারস্য থেকে, যা ঘটেছিল ৪৮০ খ্রিষ্টপূর্বের ২ অক্টোবর। হেরোডোটাস স্পার্টায় একটি সূর্য গ্রহণের কথা বলেন, যখন পারস্যদের গ্রীক দ্বিতীয় আগ্রাসন চলছিল। গ্রহণের তারিখটা (১ আগস্ট, ৪৭৭ খ্রিষ্টপূর্ব) ঐতিহাসিকদের দ্বারা গৃহিত আক্রমণের প্রথাগত তারিখের সঙ্গে সঠিকভাবে মিলে না। চীনাদের গ্রহণ রেকর্ড করার কাজ শুরু হয় প্রায় ৭২০ খ্রিষ্টপূর্বে। খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দীতে জ্যোর্তিবিজ্ঞানী সি সেন বর্ণনা করেন যে, কিভাবে চন্দ্র ও সূর্যের আপেক্ষিক অবস্থান বিবেচনা করে গ্রহণের (সূর্য বা চন্দ্র) ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়। রেডিয়েটিং ইনফ্লুয়েন্স তত্ত্ব বা বিকিরণ প্রভাব তত্ত্ব (চাদের আলো হচ্ছে সূর্যের আলোর প্রতিফলন) খ্রিষ্টপূর্ব ৬ শতাব্দী থেকে (জি নি জি এর জি রান) চীনাদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। এই চিন্তা চেতনার বিরুদ্ধে ছিলেন ১ম খ্রিষ্টাব্দের দার্শনিক ওয়াং চং, যিনি তার লেখায় পরিষ্কার করে তোলেন যে এই তত্ত্ব নতুন কিছু না। প্রাচীন গ্রীক যেমন: পারমেনিডেস এবং এরিস্টটলও এই থিওরিকে সমর্থন করেছিলেন যে, চাদের বিকিরনের কারণ হচ্ছে প্রতিফলিত আলো। গুড ফ্রাইডে-এর সঠিক দিনক্ষণ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে এভাবে যে, জিসাসের ক্রসিফিক্সন-এর অন্ধকারময়তাকে পূর্ব ধারণা করে বর্ণিত হয়েছে যে, সেটা ছিল একটি সূর্য গ্রহণ। এর গবেষণা কোনো চূড়ান্ত ফলাফল দিতে পারেনি। আর গুড ফ্রাইডেকে চিহ্নিত করা হয় ইহুদিদের বাৎসরিক শেষ পর্বের ভোজনের তারিখ হিসেবে, যা একটি পূর্ণ চন্দ্রের সময় সংগঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ৬ষ্ঠ থেকে নবম ঘণ্টা অর্থাৎ তিন ঘণ্টা অন্ধকারচ্ছান্নতা বিদ্যমান ছিল, যা ছিল অনেক। অনেক বেশি অন্যান্য সূর্য গ্রহণের চেয়ে বেশি যে, সর্বোচ্চ সময়সীমা হচ্ছে ৮ মিনিট যেকোনো সূর্য গ্রহণের জন্য সর্বমোট। পশ্চিমা গোলার্ধে বা ভূঅংশে কিছু নির্ভরযোগ্য গ্রহণের রেকর্ড পাওয়া যায় ৮০০ খ্রিষ্টাব্দের পূর্ব পর্যন্ত, মধ্যযুগের প্রথমদিকে আরবদের আগমন ও মঠ পর্যবেক্ষণ হওয়া না পর্যন্ত। প্রথম করোনা বা আলোকম-লের পর্যবেক্ষণ চিহ্নিত হয় ৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে, যা সংগঠিত হয়েছিল কনস্ট্যান্টিনোপলে। পর্যবেক্ষণ হয় একটি সম্পূর্ণ সূর্য গ্রহণের প্রথম টেলিস্কোপিক পর্যবেক্ষণ হয় ফ্রান্সে ১৭০৬ সালে। ৯ বছর পরে ১৭১৫ সালের ৩ মে’তে ইংলিশ জ্যোর্তিবিজ্ঞানী এডমুন্ড হ্যালি একটি সূর্য গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন। মধ্য ১৯ শতক থেকে সূর্যের বৈজ্ঞানিক বুঝাপড়ার উন্নতি হচ্ছিল সূর্যের আলোকমন্ডলের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে, যখন সূর্য গ্রহণ ঘটে। ১৮৪২ সালে করোনা বা আলোকম-লকে চিহ্নিত করা হয় সূর্যের বাযুম-লের অংশ বিশেষ হিসেবে। আর একটি সম্পূর্ণ গ্রহণের ফটোগ্রাফ তোলা হয় ১৮৫১ সালের ২৮ জুলাইয়ের সূর্যগ্রহণের সময়। ১৮৬৮ সালের সূর্য গ্রহণের সময় বর্ণালীবিক্ষণ বা স্পেক্ট্রোস্কোপ পর্যবেক্ষণ করা হয়, যা সূর্যের রাসায়ানিক উপদানের মিশ্রন বা রাসায়নিক গঠন নির্ধারণে সাহায্য করে।
বিশ্ব ২০২১ সালে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের তালিকা, ২৬ মে চন্দ্রগ্রহণের পর রয়েছে ১০ জুনের সূর্যগ্রহণ। ২৬ মে বুধবার পড়েছে। ১০ জুন বৃহস্পতিবার রয়েছে সূর্যগ্রহণ। এরপর ১৮ থেকে ১৯ নভেম্বর রয়েছে আরও একটি চন্দ্রগ্রহণ। ১৮ নভেম্বর পড়েছে বৃহস্পতিবার। ১৯ নভেম্বর শুক্রবার। এরপর ৪ ডিসেম্বর শনিবার রয়েছে ২০২১ সালের শেষ গ্রহণ, তথা শেষ সূর্যগ্রহণ। বিশ্ব ২০২১ সালে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের তালিকা, ২৬ মে চন্দ্রগ্রহণের পর রয়েছে ১০ জুনের সূর্যগ্রহণ। ২৬ মে বুধবার পড়েছে। ১০ জুন বৃহস্পতিবার রয়েছে সূর্যগ্রহণ। এরপর ১৮-১৯ নভেম্বর রয়েছে আরও একটি চন্দ্রগ্রহণ। ১৮ নভেম্বর পড়েছে বৃহস্পতিবার। ১৯ নভেম্বর শুক্রবার। এরপর ৪ ডিসেম্বর শনিবার রয়েছে ২০২১ সালের শেষ গ্রহণ ,তথা শেষ সূর্যগ্রহণ আর সারা দেশে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ হবে বুধবার (২৬ মে)। গ্রহণটি ওইদিন বাংলাদেশ সময় ৫টা ৯ মিনিটে শুরু হয়ে ৭টা ৫১ মিনিটে শেষ হবে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চন্দ্রগ্রহণটি বাংলাদেশে বুধবার (২৬ মে) ৫টা ৯ মিনিটে শুরু হয়ে ৭টা ৫১ মিনিটে শেষ হবে। প্রসঙ্গত, চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী এক সরলরেখায় থাকলে এবং চাঁদের ওপর পৃথিবীর ছায়া পড়লে চন্দ্রগ্রহণ হয়। চন্দ্রগ্রহণে পৃথিবীর কাছাকাছি চাঁদ চলে আসায় তা দেখতে তুলনামূলক বড় হয়। তখন সেই চাঁদকে সুপার মুনও বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে চাঁদের উজ্জ্বলতা তুলনামূলক বেশি মনে হয়।
এদিকে, আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বাংলাদেশের আকাশে চন্দ্রগ্রহণের দিন মেঘ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রহণের সময় যেসব অঞ্চলের আকাশে মেঘ থাকবে, সেখান থেকে চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে না। দেশের যেসব অঞ্চল থেকে যখন চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে সেসব তথ্য তুলে ধরে জলবায়ু মহাশাখা জানিয়েছে, ২৬ মে চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে ঢাকায় বেলা ২টা ৪১ মিনিটে এবং শেষ হবে ৩টা ৫১ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে, ময়মনসিংহে শুরু হবে বেলা ২টা ৪২ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ৩টা ৫৩ মিনিটে, চট্টগ্রামে বেলা ২টা ৩২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে শুরু হবে এবং শেষ হবে ৩টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে, সিলেটে শুরু হবে বেলা ২টা ৩৭ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ৩টা ৪৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে, খুলনায় শুরু হবে বেলা ২টা ৪২ মিনিট ২৪ সেকেন্ড এবং শেষ হবে ৩টা ৫২ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে, বরিশালে শুরু হবে বেলা ২টা ৩৯ মিনিটে এবং শেষ হবে ৩টা ৫৩ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে, রাজশাহীতে শুরু হবে বেলা ২টা ৪৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ৩টা ৫৯ মিনিট ১২ সেকেন্ডে, রংপুরে শুরু হবে বেলা ২টা ৪৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ৩টা ৫৯ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে। জলবায়ু মহাশাখা আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের টিটকার্ন দ্বীপ থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে দক্ষিণ প্রশাস্ত মহাসাগরে উপচ্ছায়ায় চাঁদের প্রবেশ ঘটবে, ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার পেপিট আইল্যান্ড থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে প্রচ্ছায়ায় চাঁদের প্রবেশ ঘটবে, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালোফি দ্বীপ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে পূর্ণগ্রহণ শুরু হবে, টোঙ্গা থেকে পূর্বদিকে দক্ষিণ-প্রশান্ত মহাসাগরে কেন্দ্রীয় গ্রহণ ঘটবে, টোঙ্গার ন্যুকুয়ালোফা দ্বীপ থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগরে পূর্ণগ্রহণ থেকে চাঁদের নির্গমন ঘটবে, যুক্তরাষ্ট্রের লয়ালটি আইল্যান্ড থেকে দক্ষিণদিকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে প্রচ্ছায়া থেকে চাঁদের নির্গমন ঘটবে এবং ম্যাকাও থেকে পশ্চিম দিকে কোরাল দ্বীপে উপচ্ছায়া থেকে চাঁদের নির্গমন ঘটবে।
পরিশেষে, আমাদের উচিত সুন্নত অনুযায়ী চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সময় এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়াও সে অনুযায়ী আমল করা এবং সব কুসংস্কার ও জাহিলিয়াতকে বর্জন করা।
লেখক : এম এ কামিল হাদিস, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক, সবুজ আন্দোলন কার্যনির্বাহী পরিষদ।
ইমেইল : [email protected]