
আজ আমি আপনাদের কোরআন থেকে এমন একটি বিজ্ঞানী তথ্য দেব, যা পড়ে আপনারা হতবাক হয়ে যাবেন! একজন অমুসলিম এটা বলতে বাধ্য হবে যে, কোরআন হলো ‘সত্য গ্রন্থ’। কোরআন আল্লাহর প্রেরিত বাণী। আর রাসুল (সা.) আল্লাহর প্রেরিত রাসুল। সত্যি কোরআন হলো এক অসাধারণ গ্রন্থ। যতই পড়ি, মুগ্ধ হই। মূল কথায় আসি। বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে যারা মেডিকেল স্টুডেন্ট রয়েছেন, তারা একটি শব্দের সঙ্গে খুবই পরিচিত। তারা একটি ড়িৎফ (শব্দ) বেশি ব্যবহার করে। আর তা হলো ‘হাইপোক্সিয়া (ঐুঢ়ড়ীরধ)’। আমি আগে আপনাদেরকে হাইপোক্সিয়া সম্পর্কে কিছু ধারণা দিই, যাতে আপনাদের বুঝতে সুবিধা হয়। কেননা এখানে মূল পয়েন্ট হলো ‘হাইপোক্সিয়া’ শব্দটি।
যারা ডাক্তার অথবা মেডিকেল স্টুডেন্ট, তারা যুঢ়ড়ীরধ এর সাথে পরিচিত। যুঢ়ড়ীরধ’র সংজ্ঞা হলো : ‘যখন মানুষ উচু যায়গায় উঠে, অক্সিজেনের আয়ত্তের বাইরে চলে যায়, সেই জায়গায় বাতাসে অক্সিজেনের অভাবে ফুসফুসীয় ধমনীগুলো সংকুচিত হওয়া।’ আপনি যখন ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উপরে চলে যাবেন। প্রায় ১০ থেকে ১৩ কিলোমিটার ওপরে চলে যাবেন। তখন আপনার হাইপোক্সিয়া হবে। তখন অক্সিজেন না থাকায় আপনার বক্ষ সংকুচিত হয়ে যাবে। আপনার কেমন কেমন লাগবে? আপনার হার্ট দুর্বল হয়ে যাবে। এক ধরনের ছটফট করতে থাকবেন। আর আল্লাহপাক ‘সুরা আনআম’-এর মধ্যে এরশাদ ফরমান অতঃপর আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন এবং যাকে বিপথগামী করতে চান, তার বক্ষকে অত্যধিক সংকীর্ণ করে দেন যেন সে সবেগে আকাশে আরোহণ করছে। এমনিভাবে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না আল্লাহ তাদের ওপর আজাব বর্ষণ করেন। (সুরা আল আন-আম ১২৫)।
এই আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাদের বক্ষকে অত্যাধিক সংকীর্ণ করে দেন, যেন সে সবেগে আকাশে আরোহণ করেছে। মূল পয়েন্ট হলো এটা। আমরা জানি, কোরআন শরিফ নাজিল হয়েছিল আজ থেকে ১৪৫০ বছর আগে হুজুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর। তখন কি মানুষ ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরে উঠেছিল? তখন কি মানুষের হাইপোক্সিয়া সম্পর্কে জ্ঞান ছিল? এর কোনো ধারণা ছিল? তখন কি বিজ্ঞান ছিল? এর পরও কোরআন শরিফে এমন তথ্য এলো কীভাবে? আকাশে আরোহণ করলে বক্ষ অত্যধিক সংকীর্ণ হয়ে যায়, এটি তারা বুঝল কীভাবে? তাদের কি কেউ আকাশে গমন করেছিল? এটি একটি চিন্তা করার বিষয়। সত্যি, এটি আশ্চর্যজনক! এর দ্বারা বোঝা যায়, কোরআন হলো সত্য গ্রন্থ। (সংক্ষেপিত)