
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালানোর পর উদ্ভুত নতুন পরিস্থিতিতে দেশটি থেকে তেল কিনতে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংলাপ চলছে ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তাদের। এই সংলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও ট্রেজারি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তাদের।
মুকেশ আম্বানি বিশ্বের প্রথম সারির জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী। গুজরাট রাজ্যের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির যে তেল শোধনাগারটি আছে, সেটি পৃথিবীর বৃহত্তম তেল শোধনাগার। এছাড়াও আরও একটি তেল শোধানগার আছে গুজরাটে। এ দুটি শোধনাগার সমন্বিতভাবে প্রতিদিন ১৪ লাখ ব্যারেল (এক ব্যারেল=১৫৯ লিটার) অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে সক্ষম।
ভেনেজুয়েলা তেল সম্পদে খুবই সমৃদ্ধ। এ মুহূর্তে বিশ্বে যত ভূগর্ভস্থ তেল রয়েছে তার এক পঞ্চমাংশই আছে ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালে যখন প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের উত্তরসূরি জো বাইডেনের সময়েও এই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। তবে সে সময় ভেনেজুয়েলার তেল কেনার জন্য ওয়াশিংটনের কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়েছিল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।
লাইসেন্স পাওয়ার পর কবে থেকে রিলায়েন্স ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনা শুরু করেছে কিংবা এ পর্যন্ত কী পরিমাণ তেল কিনেছে, সেসব তথ্য বিস্তারিত পাওয়া যায়নি; তবে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল উত্তোলনকারী কোম্পানি পিডিভসা-এর নথি থেকে জানা গেছে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রিলায়েন্সকে প্রতিদিন প্রায় ৬৩ হাজার ব্যারেল তেল সরবরাহ করেছে পিডিভসা।
ভেনেজুয়েলা থেকে তেলের সর্বশেষ চালান এসেছে গত বছর মে মাসে। গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউিইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী। তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মার্কিন আদালতে সেই অভিযোগের বিচারের প্রস্তুতি চলছে।