
দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে নতুন গতি দেখা যাচ্ছে। মার্চের শুরুতেই রেমিট্যান্সে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের ২ মার্চ একদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর মার্চের প্রথম দুই দিন (১-২ মার্চ) মিলিয়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩৭৭ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে (১-২ মার্চ ২০২৫) রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৮৮ মিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের মার্চের প্রথম দুই দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১০০ শতাংশ। মাসের শুরুতেই এমন প্রবৃদ্ধি চলতি মাসে প্রবাসী আয়ের ধারা আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-২ মার্চ) সামগ্রিক চিত্রও ইতিবাচক। এই সময়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২২ হাজার ৮৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই-২ মার্চ) রেমিট্যান্স ছিল ১৮ হাজার ৬৭৮ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম আট মাস ও দুই দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২.২ শতাংশ।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের শ্রমবাজারের পরিবর্তন, এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত নীতিগত সমন্বয়ের মধ্যেও প্রবাসী আয়ের এ প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মার্চের শুরুতেই যে গতি তৈরি হয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।