ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পোশাকশিল্পে গভীর সংকট, জরুরি আর্থিক সহায়তা চায় বিজিএমইএ

পোশাকশিল্পে গভীর সংকট, জরুরি আর্থিক সহায়তা চায় বিজিএমইএ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্প গভীর সংকটে পড়েছে উল্লেখ করে নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি জরুরি আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরেন বিজিএমইএর নেতারা। সংগঠনটির সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে বৈঠকে অংশ নেন সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান এবং পরিচালক ফয়সাল সামাদ।

বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা বলেন, বৈশ্বিক মন্দা, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং পণ্যমূল্য হ্রাসের কারণে তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমানে তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে তৈরি পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এসব প্রতিকূলতার কারণে গত এক বছরে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে আরও বহু কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে, যা শ্রমবাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।

বিজিএমইএ নেতারা জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, সরকারি ছুটি এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কর্মদিবস উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। ৬০ দিনের মধ্যে কারখানা কার্যত মাত্র ৩৫ দিন খোলা থাকলেও মার্চ মাসে নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি ঈদ বোনাস ও অগ্রিম বেতন মিলিয়ে প্রায় দ্বিগুণ মজুরি পরিশোধের চাপ পড়বে।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) পোশাক কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিজিএমইএ নেতারা। সময়মতো ব্যাংকিং সহায়তা না পেলে শ্রমিকদের মজুরি ও উৎসব ভাতা পরিশোধ এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা জানান। এতে শিল্পে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বৈঠকে লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রক্রিয়াধীন বকেয়া নগদ সহায়তার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে অর্থ ছাড়ের দাবি জানানো হয়। এতে কারখানাগুলোর ক্যাশ ফ্লো পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ঈদ ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের বেতন, ভাতা ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে ছয় মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ‘সফট লোন’ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

বিজিএমইএর মতে, সময়োচিত আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা না পেলে দেশের প্রধান রফতানি খাত হিসেবে পরিচিত তৈরি পোশাকশিল্পের সংকট আরও গভীর হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত