ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম সাত মাসের উচ্চতার কাছাকাছি অবস্থান করছে। দুই দেশের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার আলোচনা নির্ধারিত রয়েছে। গতকাল বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৩ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ বেড়ে ৭১.২০ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৩৮ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ বেড়ে ৬৬.০১ ডলারে পৌঁছায়।

গত শুক্রবার ব্রেন্টের দাম ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে, আর গত সোমবার ডব্লিউটিআই ৪ আগস্টের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে ইরানকে তার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে চাপ দিচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে ওপেকভুক্ত তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকারী দেশগুলোর সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।

আইএনজির পণ্য কৌশলবিদরা বলেন, এই অনিশ্চয়তার অর্থ হলো বাজার বড় ধরনের ঝুঁকি প্রিমিয়াম ধরে রাখবে এবং নতুন যেকোনো ঘটনার প্রতি সংবেদনশীল থাকবে। আজ বৃহস্পতিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উটকভ ও জারেড কুশনার ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকে বসবেন। গত মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি হাতের নাগালে, তবে শুধু তখনই যখন কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি না হলে খুব খারাপ পরিণতি হবে। এদিকে চীন থেকে সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে ইরান। এ বিষয়ে একটি চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে দেশ দুইটি। ছয়টি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ইরান উপকূলের কাছে বড় নৌবহর মোতায়েন করছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়জনের তথ্য অনুযায়ী, চীনে নির্মিত সিএমণ্ড৩০২ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। তবে সরবরাহের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঠিক হয়নি।

প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার এই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিচু উচ্চতায় ও উচ্চগতিতে উড়ে জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইরানের আঘাত হানার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করবে। গত বছরের জুনে ইসরায়েল-ইরান ১২ দিনের যুদ্ধের পর আলোচনা দ্রুত অগ্রসর হয়। আলোচনার শেষ পর্যায়ে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারা চীন সফর করেন।

ইসরায়েলের থিংক ট্যাংক ইন্সটিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন- ইরান যদি সুপারসনিক সক্ষমতা পায়, তা পুরো পরিস্থিতিই বদলে দেবে। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। চুক্তিতে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে বা মূল্য কতো তা স্পষ্ট নয়। এমন খবর প্রকাশের পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা অবগত নয়। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও মন্তব্য করেনি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত