
নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় দুই দফা বিশেষ অভিযানে মোট ১৫ জনকে আটক করেছে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে নগদ ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা, মাদক ও চোরাই পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা ও সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবার বিকালে এসআই আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে ডিবির একটি টিম কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের তেরোতোপা গ্রামে মো. সারফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। গোপন তথ্যে জানা যায়, চোরাই পথে ভারতীয় গরু, মাদক ও বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য চোরাচালান এবং মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের প্রস্তুতি চলছিল। এদিন ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়।
পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে একই এলাকায় পুনরায় অভিযান চালিয়ে আরও ১১ জনকে আটক করা হয়, যার মধ্যে চারজন নারী রয়েছেন।
দুই দফা অভিযানে মোট ১৫ জন আটক হন। অভিযানে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবির অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম, কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত), বিশরপাশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ও ফোর্স এবং নেত্রকোনা পুলিশ লাইন থেকে আগত বিশেষ পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানকালে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে ভারতীয় আমদানি নিষিদ্ধ ৫ বোতল মদ, ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫টি ভারতীয় গরু ১ একটি মোটরসাইকেল এবং নগদ ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ সময় পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অপর আসামিরা আরও ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য, কসমেটিক পণ্য, ভারতীয় গরু এবং টাকা গণনার মেশিন নিয়ে সুকৌশলে পালিয়ে যায়। তারা পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে তিনজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও ধারণ করতে গেলে উত্তেজিত আসামিরা তাদের ওপর হামলা করে। এতে শ্যামল সরকার নামে এক সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।
তাকে প্রথমে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পৃথক পৃথক মামলা হয়েছে।