
দেশীয় টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি, আয়কর হার পুনর্নির্ধারণ এবং কাঁচামালের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বস্ত্রশিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করে এসব দাবি তুলে ধরে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে বিটিএমএ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে বস্ত্র খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিটিএমএমের সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, সংসদ সদস্য ও সহসভাপতি আবুল কালাম উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রীকে বিটিএমএ থেকে দেওয়া চিঠিতে দাবির বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।
দাবি কী কী : চিঠিতে বলা হয়, দেশের স্পিনিং, উইভিং, ডাইং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিংসহ বস্ত্র খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। এ খাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কয়েক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশই আসে এই শিল্প থেকে। তবে আমদানি করা সুতা ও কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা, বাড়তি উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপে শিল্পটি সংকটে পড়েছে।
বিটিএমএর দাবি, স্থানীয় মূল্য সংযোজন ও রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় সুতা ব্যবহার উৎসাহিত করতে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। এ ছাড়া প্রাথমিক টেক্সটাইল খাতের জন্য ১২ শতাংশ আয়কর হার ২০৩০ সাল পর্যন্ত বহাল রাখা, পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার (পিএসএফ), পিভিসি রেজিন ও পিইটি রেজিনের ওপর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং নগদ সহায়তার ওপর উৎসে করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করার দাবি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, আন্তপ্রতিষ্ঠান ঋণ বা ইন্টার-কোম্পানি লোন উৎপাদন ও ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আয়কর আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পকে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিটিএমএ। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিটিএমএর পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি ও সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিষয় বৈঠকেই সমাধান হয়েছে; আর বাকি বিষয়গুলো সরকার বিবেচনা করবে।