ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ই-জিপির শতভাগ বাস্তবায়ন ও এআই সংযুক্তিতে অগ্রাধিকার

ই-জিপির শতভাগ বাস্তবায়ন ও এআই সংযুক্তিতে অগ্রাধিকার

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় ই-জিপির শতভাগ বাস্তবায়ন, ক্রয়কারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার, মান ও টেকসইতা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প পরিচালকদের ক্রয় ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি। বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান সম্প্রতি একথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা গেলে সরকারি সেবার মান বাড়বে এবং ক্রয়ব্যবস্থার প্রতি নাগরিকদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে। কামরুজ্জামান আরও বলেন, সব সরকারি ক্রয়ে ই-জিপির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা বিপিপিএর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর ক্রয় সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রকল্প পরিচালকদের ক্রয়, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অফলাইনে দরপত্র আহ্বানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিপিপিএ নির্বিচারে অফলাইন টেন্ডারের অনুমতি দিচ্ছে না। কোন পরিস্থিতিতে ক্রয়কারী সংস্থাগুলো অফলাইনে দরপত্র আয়োজনের অনুমতি পাবে, সে বিষয়ে সম্প্রতি একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। ই-জিপি সফটওয়্যারের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পুরোপুরি বিপিপিএর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আনার কাজও চলছে বলে জানান তিনি।

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার সাম্প্রতিক সংস্কার তুলে ধরে বিপিপিএর সিইও বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ড গঠন ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে কোনো ক্রয়কারী সংস্থার ডিবারমেন্ট বা দরপত্রদাতাকে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য একটি স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। তার মতে, নতুন বোর্ড সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় ন্যায্যতা, যথাযথ প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে কামরুজ্জামান বলেন, ই-জিপি ভার্সন ২.০ চালু ও পুরোনো হার্ডওয়্যার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যমান ই-জিপি ডেটা সেন্টার আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া নিজস্ব জমিতে বিপিপিএর স্থায়ী প্রধান কার্যালয় নির্মাণ এবং সাসটেইনেবল পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (এসপিপি) বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক করতে এআই ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি সংযুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা আরও আধুনিক, নাগরিকবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর), ২০২৫-এ সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনা হয়েছে বলে জানান কামরুজ্জামান। এসবের মধ্যে রয়েছে— জাতীয় পর্যায়ের কার্যসম্পাদনমূলক ক্রয়ে ১০ শতাংশ মূল্যসীমা বাতিল, সব সরকারি ক্রয়ে ই-জিপির বাধ্যতামূলক ব্যবহার ও সফল ঠিকাদারদের প্রকৃত মালিকানার তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত