
সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে। এ সময়ে কৃষি খাত টানা ১৩তম মাসে সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। একইসঙ্গে আগামী মাসগুলোতে প্রধান চারটি খাতেই ইতিবাচক ব্যবসায়িক সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) প্রকাশিত দেশের সেপ্টেম্বরের 'বাংলাদেশ পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই)' প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সামগ্রিক পিএমআই ৪৮ দশমিক ৬-এ দাঁড়িয়েছে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সামঞ্জস্য বিধানের একটি পর্যায়কে প্রতিফলিত করে। ৭ অক্টোবর প্রকাশিত সেপ্টেম্বরের পিএমআই প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষি খাত অর্থনীতির প্রধান শক্তি হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। একই সময়ে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচক কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা— এ চারটি খাতেই সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিয়েছে।
কৃষি খাত টানা ১৩তম মাসে সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। সেপ্টেম্বরে এ খাতের পিএমআই ৫৫ দশমিক ২-এ দাঁড়িয়েছে। আগস্টের তুলনায় সম্প্রসারণের গতি কিছুটা কমলেও নতুন ব্যবসা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এটি সামগ্রিক অর্থনীতিকে সহায়তায় কৃষি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে। কৃষি খাতের এ ধারাবাহিক বিস্তার বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিদ্যমান খরচের চাপ সত্ত্বেও এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি স্থিতিশীল ভিত্তি তৈরি করেছে এবং গ্রামীণ চাহিদা ও উৎপাদনের সহনশীলতা প্রকাশ করেছে।
উৎপাদন খাতে সেপ্টেম্বর মাসে পিএমআই রেকর্ড করা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৮। চলতি মাসে এই খাতে কিছুটা সংকোচন দেখা গেলেও, কর্মসংস্থান খাতটি সামান্য বিস্তারের ধারায় ফিরে এসেছে। এটি শ্রমবাজারের সহনশীলতা এবং ব্যবসায়িক পরিস্থিতির উন্নতি হলে সার্বিক পরিস্থিতির অগ্রগতির সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
নির্মাণ খাতের পিএমআই ৪৮ দশমিক ৫ এবং সেবা খাতের পিএমআই ৪৯ দশমিক শূন্যে দাঁড়িয়েছে। উভয় খাতই সম্প্রসারণের সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এতে চাহিদার পরিস্থিতির উন্নতি হলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আবারও গতি ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সেবা খাতে সংকোচন ছিল সামান্য। ফলে, এ খাতটি পুনরায় সম্প্রসারণে ফেরার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
ব্যবসায়ীদের মতামত থেকেও বেশ কিছু আশাব্যঞ্জক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত অর্ডার, বিশ্বস্ত ক্রেতা এবং আসন্ন শীতকাল ও মূল ব্যবসায়িক মৌসুমে শক্তিশালী মৌসুমী চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আগামী মাসগুলোতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। 'ফিউচার বিজনেস ইনডেক্স' বা ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচক চারটি খাতেই ইতিবাচক ধারা দেখিয়েছে, যা ব্যবসায়িক আস্থা এবং আগামী মাসগুলোর প্রত্যাশার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত।
তবে ব্যবসায়ীরা এখনো জ্বালানি ও তেলের উচ্চমূল্য, উৎপাদন উপকরণ ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, ভোক্তাদের দুর্বল ক্রয়ক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং অর্থায়নের সুযোগ সীমিত থাকার মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব সমস্যা মোকাবিলা করা গেলে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি আরো বাড়ানো সম্ভব হবে। পিএমআই এর ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি সামঞ্জস্য বিধানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তবে সহনশীলতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো এখনো স্পষ্ট। কৃষির ধারাবাহিক বিস্তার এবং উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতের সূচক সীমার কাছাকাছি অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসা নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে পর্যায়ক্রমে শক্তিশালী করার একটি ভিত্তি প্রদান করে। সেপ্টেম্বরের পিএমআই সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষি খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে সহায়তা করছে। পাশাপাশি চারটি খাতেই ইতিবাচক প্রত্যাশা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ভিত্তি তৈরি করছে।